পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর অত্যচার বন্ধের আর্জি জানিয়ে সোচ্চার মানবাধিকার কর্মী ফতিমা গুল

ফতিমা গুল
ফতিমা গুল

আজবাংলা মাসকয়েক আগেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫১জন সদস্য পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিঠি লিখে তার দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধ না-হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে পাকিস্তানকে দেওয়া যাবতীয় আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার কথা ভাবতে বাধ্য হবে, স্পষ্ট ভাষায় সেই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় ইসলামাবাদকে।

পাকিস্তানে পুলিশের রিপোর্ট বলছে, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১০০০ জন হিন্দু মেয়েকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।এবার পাকিস্তানে মানবাধিকার কর্মী ফতিমা গুল সোচ্চার হলেন সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হিংসাত্মক অত্যচার নিয়ে।তিনি মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ বিষয়ক কমিটির কাছে জানান যে, ধর্মীয় নিপীড়ন ও মহিলাদের ওপর হিংসাত্মক আচরণ পাকিস্তানে খুব সাধারণ ব্যাপার।তিনি এ প্রসঙ্গে আরও জানান যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ধর্মীয় এক দল সিন্ধু প্রদেশের মন্দির, বাড়ি, স্কুল ও ঘোটকি শহরে বসবাসকারী হিন্দুদের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল যে সিন্ধু প্রদেশের এক হিন্দু অধ্যাপক অধার্মিক মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেন পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় অল্পবয়সী হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। মানবাধিকারের ওই মহিলা কর্মী বলেন, ‘‌ধর্মীয় নিপীড়ন পাকিস্তানে সবসময়ই আড়ালে থেকে গিয়েছে। সরকারের ওপর যাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেইসব ধর্মীয় চরমপন্থীরা হিন্দু, ক্রিস্টান, আহমেদিস, শিয়াস, বালোসদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত ইউরোপীয় এমপি-দের সংকলিত ওই রিপোর্টে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের যে অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে তা যেমন মর্মান্তিক, তেমনি চূড়ান্ত অমানবিক।পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের তান্দো আল্লাইয়ার জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এই বাচ্চা মেয়েটিকে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। বর্ষার বাবা শিবা যখন স্থানীয় থানায় মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে যান, তখন তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পুলিশ তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ বর্ষার বাবাকে জানায় তার মেয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম নিয়েছে এবং তার নতুন নাম হল সায়রা। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে তাকে একটি ‘সার্টিফিকেট’ও ধরিয়ে দেওয়া হয়।বর্ষার পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস, মুহাম্মদ আয়ুব জান ফারুকি নামে স্থানীয় একজন মুসলিমই তাদের নাবালিকা মেয়ের অপহরণ, ধর্ষণ ও জোর করে ধর্মান্তরের জন্য দায়ী। আর তারা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ার কারণে এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কারও বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপই শুরু করেনি। ইউরোপীয় এমপি-দের রিপোর্টে শুধু বর্ষাই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের মনিকা, শিখ সম্প্রদায়ের হরিন্দর, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সোনিয়া বা অনিলা-র মতো কিশোরী বা নারীদের ওপর চরম নির্যাতনের ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে।



এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!