জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বেশ খুশি অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলত্‍স।

Finance Minister Olaf Sultas is very happy about the economic
জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বেশ খুশি অর্থমন্ত্রী

আজবাংলা  ডিসেম্বরে হামবুর্গে অনুষ্ঠেয় ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সম্মেলনে দলীয় সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দেবেন জার্মানের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। এর ফলে বর্তমান জোটের পতনসহ ব্যাপক রাজনৈতিক ভাঙন হতে পারে। নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজস্ব ব্যয় কমানো সহজ হবে না। গত অক্টোবরে হঠাৎ করেই দলীয় সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান জার্মানের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। তাঁর এই সিদ্ধান্ত জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। টানা ১৮ বছর দলীয় সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খ্যাপাটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের রক্ষণশীল মনোভাব নিয়ে একটা শঙ্কা আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতালির বেয়াড়া সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার কারণে ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমাতে হয়েছে জার্মানিকে । জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রক্তন কর্মকর্তা জ্যাটেলমেয়ার বলেন, জার্মানির সাফল্যের অন্যতম সমস্যা হলো এটি কাঠামোগত অযোগ্যতা মোকাবিলা করা থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। দ্য সেন্টার ফর ইউরোপীয় রিফর্মের ক্রিশ্চিয়ান ওডেনডাহল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণ হলো ‘ভাগ্য’। বিশ্বব্যাপী জার্মান পণ্যের চাহিদা, ইউরোর দর কমা ও স্বল্প সুদের হার জার্মানির সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। কিন্তু এই সৌভাগ্যের সময়ে জার্মানি তার সুরক্ষিত সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার সুযোগ কাজে লাগায়নি। ডিজিটালাইজেশন ও কর সংস্কারকে উন্নত করতে পারেনি। কেবল রপ্তানি দিয়ে উন্নয়ন এনেছে দেশটি। জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বেশ খুশি অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলত্‍স। চলতি সপ্তাহে দেশবাসীকে তিনি সুখবরই দিয়েছেন। সরকারি ঋণের পরিমাণ এখন জিডিপির ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ইউরোজোনের বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যেই রয়েছে। ওলাফ শলত্‍স বলেন, ‘সত্যিই এটি অনেক বড় সাফল্য, সত্যিকারের জয়।’ সম্প্রতি ২০১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করে এই খবর দেন ওলাফ। বাজেট এবারও ঘাটতি পূরণে কোনো নিট ঋণ নিতে হচ্ছে না জার্মানিকে। এই নিয়ে টানা ছয় বছর ঋণে ‘ব্ল্যাক জিরো’ প্রেফারেন্স জার্মানির। শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত তারা। ‘মেড ইন জার্মানি’-র কদর আজও কমেনি, বিশেষ করে উয়মান শক্তিধর দেশগুলিতে চাহিদা বেড়ে চলেছে৷ গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও রসায়ন শিল্প এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে৷ জার্মানির রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ‘প্রসেসিং’ বা প্রক্রিয়াজতকরণ ক্ষেত্রের ভাগে পড়ে৷ সবাই জার্মানির উদ্ভাবনী শক্তিকে সমীহ করে৷ জার্মানিতে গবেষণা ও বিভিন্ন পণ্য বা পরিষেবার বিকাশের ক্ষেত্রে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই দেয় বেসরকারি শিল্প সংস্থাগুলি৷ ইউরোপের বাকি শিল্পোন্নত দেশগুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাত বড়জোর ৭০ শতাংশ৷