সংবাদ মাধ্যমের খবরের জেরে অসহায় দুই বোনের পাশে দাঁড়ালো রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ।

রাহুল মন্ডল, আজবাংলা মানিকচক : অবশেষে সংবাদ মাধ্যমের খবরের জেরে অসহায় দুই বোন দেবী ও পার্বতীর সমস্ত রকম সাহায্যে এগিয়ে আসলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের।সরকারি ভাবে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন সাবিত্রী মিত্র। সাথে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।সংবাদ মাধ্যমের প্রচারের আলোয় এমন সাহায্য পেয়ে খুশি দেবী পার্বতী সহ তাদের গ্রামবাসীরাও।আর ভিক্ষা নয়,পড়ালেখা করে বড়ো হতে চাই দেবী পার্বতী।মালদার মানিকচক ব্লকের চৌকি মিরদাদপুর অঞ্চলের ভগবানপুর গ্রামে বাস নাবালিকা দুই বোনের।বড়ো বোন দেবী মাঝি(১৩) ও ছোট বোন পার্বতী মাঝি(১১)।স্থানীয় কালিন্দ্রি উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাক্রমে অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।বাবা নগেন মাঝি শাররীক অসুস্থতায় মারা গেছে প্রায় দুই বছর আগে।মা চঞ্চলা মাঝি মারা গেছেন প্রায় এক বছর আগে।তারপরই যেনো সবই শেষ।দুই অসহায় বোনের পাশে আসেনি আত্মীয় পরিজনেরা।এই অবস্থায় আমরাই প্রথম তুলে ধরি দুই বোনের বেঁচে থাকার করুন লড়াইয়ের চিত্র।তারপরই ঘুম ভাঙে প্রশাসন সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের।একে একে দুই বোনের বাড়িতে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।এদিনে তাদের বাড়িতে সাহায্যের ঝুলি নিয়ে হাজির হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের সদস্যা সাবিত্রী মিত্র।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কবিতা মন্ডল,স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পিন্টু ,সমাজ সেবী সমদ্বিপ সরকার ,রেজাউল আলি সমরেশ সরকার ,সহিদুল আলি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তারা সহ সেচ্চসেবী সংগঠনের সদস্যরা।উল্লেখ্য,দেবী পার্বতী দুই বোনের করুন জীবন কাহিনী আমরাই তুলে ধরি জনগণের কাছে।পড়াশোনার খরচা যেখানে অধিক কল্পনা,সেখানে বেঁচে থাকতে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোটাতে ভিক্ষায় সম্বল ছিলো তাদের। ভগবান ভরসাতেই এগিয়ে চলছিল দুই বোনের লড়াই।সেই সংবাদের জেরে অসহায় দুই বোনের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসলো সকলেই।এদিন সাবিত্রী মিত্র জানান,সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল এই দুইজনের জীবন যুদ্ধের কাহিনী।তা দেখেই আমি ছুটে এসেছি।আমি জেলাশাসক ও শিশু সুরক্ষা বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরের সাথে কথা বলেছি।সরকারি সমস্ত সুবিধা তারা পাবে।তাদের ব্যাংকে খাতা খুলে দেওয়া হচ্ছে।সরকারি ভাবে প্রতিমাসে তাদের একাউন্টে টাকা ঢুকবে।বাড়িতে থেকে তারা পড়াশোনা করবে।জেলাসাশককে এদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি।অভিভাবক হিসেবে স্থানীয় অঙ্গনওয়ারী কর্মী যুক্ত থাকবে।বিদ্যুৎ দপ্তর আজই বিদ্যুৎ যুক্ত করে করে দেওয়া হয়েছে। মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কবিতা মন্ডল দুই বোনের জন্য নিয়মত জিআর এর ব্যবস্থা করবে । পাশাপাশি যুব সংগঠনের তরফ থেকে সাইকেল ও নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়চ্ছে।
উপপ্রধানের পিন্টুর চেষ্টায় লাইট ফ্যানের ,শৌচাগার এর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।সবরকম সাহায্যে আমি এদের পাশে থাকবো।অসহায় দুই বোন জানান,আমরা পড়াশোনা করতে চাই কিন্তু পেটের খাওয়ার জোগাড় করতে স্কুল ছেড়ে করতে হচ্ছিলো ভিক্ষে।সাহায্য পেয়ে খুশি আমরা।পড়াশোনা করে বড়ো হতে চাই।