সোনার খনি দেশের খাতায় নাম লেখাতে চলেছে ভারত

আজবাংলা    সোনার ক্ষেত্রে প্রতি বছরে প্রায় 800-900 টন খরচ করে বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রাহক হওয়া সত্ত্বেও, ভারত নিজে খুব সামান্য পরিমাণ সোনা খনন করে৷ ভারতের শেষ সোনার খনি কর্ণাটকের হট্টি সোনার খনি 1902 সালে উৎপাদন শুরু করে 2015 সালে 45,000 আউন্স হলুদ ধাতু উৎপাদন করে, যা মোটামুটি 1.275 টন৷ কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোর থেকে 45 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কোলার সোনার খনিটি 120 বছর কার্যকর ছিল, এখানে প্রায় 800টন মত সোনা উৎপাদন হয়েছিল, 2001সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়৷ এবার দু’দশক ধরে তন্নতন্ন করে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে মাটির নীচে বিশাল সোনার খনির হদিশ পেল জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জিএসআই) ও উত্তরপ্রদেশের ডিরেক্টরেট অফ জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং। তাও আবার একটি নয়, একসঙ্গে দু-দুটি। উত্তরপ্রদেশের মাওবাদী-অধ্যুষিত সোনভদ্র জেলায় খোঁজ মেলা এই দুটি সোনার খনিতে আনুমানিক ৩৩৫০ টন সোনা মজুদ। বর্তমানে ভারতের গোল্ড রিজার্ভের মোট পরিমাণ ৬২৬ টন। অর্থাৎ, এই খনি দুটিতে মজুদ সোনার পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ!প্রায় দু’দশক আগে ১৯৯২-৯২ সালে সোন পাহাড়ি অঞ্চলে অনুসন্ধানরত জিএসআই-এর দলটি ওই সোনার খনির হদিশ পায়। সোন পাহাড়ি এলাকা এলাকা ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছেই। জেলা খনি আধিকারিক কে কে রাই-য়ের কথায়, ‘বন দফতর ও খনি দফতর থেকে খননকাজ শুরু করার জন্য আবেদন জানানো হবে। বন দফতরের অনুমোদন পাওয়া গেলে খননকাজের জন্য ই-টেন্ডার ডাকা হবে। সোন পাহাড়ি এলাকায় খনিতে মজুত রয়েছে প্রায় ২,৯৪৩.২৬ টন সোনা। হারদি খনিতে এর পরিমাণ প্রায় ৬৪৬.১৬ টন।’ সোনা ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের ওই এলাকায় অন্য খনিজ পদার্থেরও সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছেন রাই। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সোনভদ্রে ভৌগলিক অবস্থানের জন্য সেখানে খননকার্য চালানো সুবিধে। এমনিতেই, সোনভদ্রের মাটি বরাবরই খনিজ-পদার্থে উর্বর বলে পরিচিত। তবে, এখন একেবারে সোনায় সোহাগ! শুধু সোনা নয়, সোনভদ্রে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বেরও খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।ইতিমধ্যেই, সাত সদস্যের দল গঠন করে সোনভদ্রে পাঠিয়েছে উত্তরপ্রদেশ খনি দফতর। এই দলটি সোনার খনির মানচিত্র তৈর করবে এবং জিও-ট্যাগিং করবে। আগামী ২২ তারিখ তারা রিপোর্ট জমা দেবে। তারপরই, এই খনি দুটিতে খননকার্যের বরাতের জন্য নিলামপর্বের প্রক্রিয়া শুরু হবে।