জেনে নিন গুরু পূর্ণিমা কি ও গুরু পূর্ণিমার মাহাত্ম্য

আজবাংলা আজ গুরু পূর্ণিমা, আজ থেকে চর্তুমাস্য ব্রত শুরু, নিয়ম সেবা আরম্ভ  আধ্যাত্মিক জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ্য গুরু পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয়।আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে গুরুপূর্ণিমা পালন করা হয়। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মহাভারত প্রণেতা এবং বেদ বিভাগ কর্তা মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব জন্মগ্রহণ৷ তিনি জন্মগ্রহণ করেন মুনি পরাশর ও মাতা সত্যবতীর ঘরে। মহর্ষি ব্যাসদেবের জন্মতিথি বলে এই পূর্ণিমাকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। তাই আদিগুরু হিসেবে তাঁর জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে এই গুরুপূর্ণিমা সমাজে প্রসার লাভ করে। যদিও অপর এক মতে বলা হয় ভগবান শিব এই তিথিতেই সপ্তর্ষিকে জ্ঞান প্রদান করেন। সেই ঘটনা থেকেই কালক্রমে গুরু প্রথার সৃষ্টি হয়েছিল৷ তবে এই দিনটি বৌদ্ধদের কাছেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই পূর্ণিমাতেই ভগবান বুদ্ধদেব সর্বপ্রথম তাঁর পাঁচজন শিষ্যকে উপদেশ প্রদান করেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করে এই গুরু পূর্ণিমা দিনটি পালন করে তারা। তাই এই দিনটি হিন্দুদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে তারা তাদের আধ্যাত্মিক গুরুর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার্য বা শিক্ষা গুরুদের উদ্দেশ্যে পূজা ও শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে। গুরুকে স্মরণ করেই শুরু হয় তাদের কর্মজীবনের পথচলা।ভারতীয় ঐতিহ্যে গুরুর স্থান সবার ওপরে। তাই গীতায় গুরুবন্দনাতে বলা হচ্ছে- 'ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া চক্ষুরীন্মিলীতং যেন তস্মৈশ্রীগুরবে নমঃ।' তিনি তাঁর জ্ঞান দিয়ে আমাদের মনের অন্ধকার দূর করেন, এর থেকে বড় প্রাপ্তি আমাদের আর কিই বা হতে পারে! তাই তাঁকে বন্দনা করে আবার বলা হচ্ছে- 'গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেব মহেশ্বর, গুরু সাক্ষাত্‍ পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ'। গুরু ব্রহ্মের সমান মহান, তাঁর স্থান শিষ্যর মস্তিষ্কে। সেখানেই থাকে সহস্রদল পদ্ম। সেই পদ্মই তার আসন। সাধনা পথ সেখানে গিয়ে, তার পদপ্রান্তে গিয়ে শেষ হয়। আমাদের পথ বলে দেওয়াতেই তার আনন্দ আর আমাদের আনন্দ সেই পথ চলাতেই। এই দিনে আধ্যাত্মিক গুরুর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার্য বা শিক্ষা গুরুদের উদ্দেশ্যে পূজা ও শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন। গুরুকে স্মরণ করেই শুরু হয় সবার কর্মজীবনের পথচলা।