৫১ শক্তিপীঠের এক পীঠ, পাকিস্তানের এই দেবীর মন্দিরে নিয়মিত পুজো করে মুসলিমরাও

৫১ শক্তিপীঠের এক পীঠ, পাকিস্তানের এই দেবীর মন্দিরে নিয়মিত পুজো করে মুসলিমরাও

আজবাংলা      হিংলাজ পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের মাকরান মরুভূমিতে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান | এই মন্দিরটি করাচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত | সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম হিঙ্গলাজ দেবীর মন্দির | 'শক্তিপীঠ' হিসেবে হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য স্থান রয়েছে এই তীর্থক্ষেত্রের | 

৫১ টি পীঠের মধ্যে ৪২ টি ভারতে এবং বাকী ১ টি তিব্বত, ১ টি শ্রীলঙ্কা, ২ টি নেপাল, ৪ বাংলাদেশ এবং একটি পাকিস্তানে | আর এই পাকিস্তানের পীঠই হল হিঙ্গলাজ দেবীর মন্দির | বালুচিস্তানের লাসবেলায় মাকরান উপকূলের কাছে গিরিখাতে থাকা হিংলাজে সতীর সিঁদুর বা হিংগুল মাখা মাথা পড়েছিল বলে কথিত আছে | তাই হিন্দুদের কাছে হিংলাজ পীঠ খুবই পবিত্র |

ভারত - পাকিস্তানের সম্পর্ক কোনদিনও ভাল নয় | দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ লেগে থাকে | তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা হারায়নি তারই প্রমাণ বোধহয় আজও তুলে রেখেছে হিঙ্গলাজ দেবীর মন্দির | ধর্মীয় ভেদাভেদ সেখানে মাথা তুলে দাঁড়ানি | 

পাকিস্তানের এই হিন্দু দেবীর মন্দিরে নিয়মিত পুজো করে আসছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরাও | পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় হিঙ্গোল নদীর ধারে এই গুহা-মন্দির অবস্থিত | অনেকে এঁকে হিঙ্গুলা দেবীও বলে থাকেন | নানি মন্দির হিসেবেও পরিচিত এই মন্দির |

হিংলাজের মন্দিরটি একটি গুহার মধ্যে অবস্থিত৷ এটি আসলে একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের অগ্নিকুণ্ড৷ অগ্নিজ্যোতিকেই হিংলাজদেবীর রূপ বলে মানা হয়৷ বর্তমানে এখানে খুব কম পর্যটক আসেন৷ এখানে হিঙ্গোল ন্যাশনাল পার্ক বলে একটি অভয়ারণ্য রয়েছে৷ সেখানে কুমীর সংরক্ষণ করা হয়। 

মুসলিমদের কাছে এটি পরিচিত 'নানি' অথবা 'বিবি নানি'র মন্দির হিসেবে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে চার দিনের জন্য হিঙ্গলাজে তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়। শুধু হিন্দুরা নন, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষজন সেই সময় হিঙ্গলাজ দেবীর দর্শনে যান। 

মহাভারতেও হিঙ্গলাজ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। সিন্ধ প্রদেশের রাজা জয়দ্রথ হিঙ্গলাজ মন্দিরের আশেপাশে অনেক মন্দির স্থাপন করেছিলেন। এই মন্দিরে প্রতি বছর এপ্রিল মাসে চার দিনের জন্য যে তীর্থযাত্রা হয়, তাতে অংশ নেন মুসলিমরাও। একে তাঁরা বলেন 'নানি কি হজ'। 

দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি লোককথা | জানা যায়, ত্রেতা যুগে চিন সীমান্তের কাছে তাতার-মোঙ্গল রাজত্বে হিঙ্গোল ও সুন্দর নামে দুই রাজকুমার ছিলেন | এই দুই রাজকুমার  ছিলেন অসম্ভব অত্যাচারী | এদের অত্যাচার থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে গণেশ সুন্দরকে হত্যা করেন | 

হিঙ্গোলের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজ্যের প্রজারা দেবীর আরাধনা করেন। তখন হিঙ্গোলকে তাড়া করে দেবী এই গুহার মধ্যে তাঁকে নিয়ে আসেন এবং সেখানেই তাঁর হত্যা করেন। মৃত্যুর আগে হিঙ্গোলের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তারপর থেকে এই জায়গার নাম হয় হিঙ্গলাজ।