মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী রামচন্দ্র জন্মের ইতিহাস

History of Ramchandra Birth
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী রামচন্দ্র
 History of Ramchandra Birth
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী রামচন্দ্র

আজবাংলা  অযোধ্যার রাজা ছিলেন অজ আর রানী ছিলেন ইন্দুমতি। তাদের এক ছেলে দশরথ। দশরথের বয়স যখন এক বছর তখন অজ আর ইন্দুমতি পরলোক গমন করেন। ঠিক তখন বশিষ্ঠ মুনি তাকে নিয়ে গেলেন নিজ আশ্রমে। সেখানে তাকে শেখালেন বিভিন্ন শাস্ত্র, অস্ত্রবিদ্যা শিখালেন আরো দিলেন অন্যান্য প্রশিক্ষণ। পাঁচ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহন করেন। ভৃগুরাম মুনি তাকে নিজ অস্ত্র দিলেন, শেখালেন শব্দভেদী বানের (তীর) ব্যবহার। তার বয়স যখন ত্রিশ বছর তখন কোশল রাজার কন্যা কৌশল্যাকে বিয়ে করেন। এরপর গরিরিাজ কন্যা কৈকেয়ীর স্বয়ম্বরায় রাজা দশরথ গেলে বাকি রাজাগণ তাকে সসম্মানে কৈকেয়ীর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন, তারা কোনও আপত্তি করেননি। এরপর রাজা দশরথ সিংহলের রাজা সুমিত্রের পরমা সুন্দরী কন্যা সুমিত্রাকে বিয়ে করেন। রাজা দশরথ তিন সুন্দরী স্ত্রী নিয়ে মহানন্দে অন্তপুরে দিন কাটায় আর অন্যদিকে রাজ্যে অনাবৃষ্টি, খরাতে ফসল সব ধ্বংস হয়ে গেল। রাজা গেলেন স্বর্গলোকে এর প্রতিকারের জন্য। ইন্দ্রের পরামর্শে তিনি গেলেন শনির সাথে দেখা করতে যদি তার আনুকুল্য পাওয়া যায়। শনি ঘর থেকে রাজার দিকে তাকানো মাত্র রাজা দশরথের রথ ভেঙ্গে টুকরা, রাজা রথ থেকে পড়তে শুরু করলেন। তার অবস্হা দেখে জটায়ু নামে এক পাখী তাকে নিজ পাখায় আশ্রয় দিল। তাতে রাজা প্রাণে বাঁচলেন। রাজা আবার গেলেন শনির কাছে, তখন শনি বললেন তুমি আবার রাজ্যে গেলে তোমার রাজ্যে বৃষ্টি হবে, ফসল সবই হবে, আর তোমার ঘরে স্বয়ং নারায়ণ পুত্ররুপে জন্ম নিবেন। এই ভাবে খরা কাটল আর রাজ্যে সুখ ফিরে আসল। এরপর বহুকাল কেটে যায়। নারায়ণের এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রহ্মা জানালেন যে স্বয়ং নারায়ণ রঘুবংশে দশরথের ঔরসে কৌশল্যার গর্ভে পুনরায় জন্ম নিবেন এবং রাবনকে বধ করতে পারবেন। এদিকে নারায়ণ জন্ম নিবেন মানুষ রুপে তার পত্নী লক্ষী তখন যাবেন কোথায়? তখন ব্রহ্মা বললেন, লক্ষী মিথিলার রাজা জনকের রাজ্যে সীতা হয়ে জন্ম নিবেন। তখন রাজা দশরথ পুত্র সন্তানের জন্য যজ্ঞ করেন এবং যজ্ঞের মুনি ঋষ্যশৃঙ্গ যজ্ঞ থেকে একটা ফল পান এবং সেই ফল রাজাকে দিয়ে তার পত্নীদের খাওয়াতে বলেন।  সেই মোতাবেক দশরথ ফল নিয়ে দুই ভাগ করে তার প্রধান দুই রানী কৌশল্যা আর কৈকেয়ীকে খেতে দেন। এমন সময় রানী সুমিত্রা এসে কান্নাকাটি করল পুত্রলাভের ফলের জন্য। তখন কৌশল্যা দয়াবতী হয়ে তার ভাগের অর্ধেকটা ফল আরো দুভাগ করে একভাগ সুমিত্রাকে দেন।  যথাসময়ে কৌশল্যার ঘরে রাম জন্ম নিলেন। ক’দিন পর কৈকেয়ীর ঘরে ভরত জন্ম নেন আর সুমিত্রার ঘরে যময পুত্র লক্ষ্মণ আর শত্রুঘ্ন জন্ম নেন। এই হল রাম লক্ষ্মণ ভরত শত্রুঘ্নদের জন্ম কাহিনী। ভগবান শ্রী রামচন্দ্র আবির্ভূত হলেন। দিনটি ছিল চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথি। শ্রী রাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্তব্য পালনের পরাকাষ্ঠা। তাই তিনি মর্যাদা পুরুষোত্তম। তিনি পিতৃসত্য পালনে চোদ্দ বছরের বনবাসী, আবার ধর্মযুদ্ধে তিনিই বালীকে নিজে ছলনায় বধ করেন আর পূজারত নিরস্ত্র মেঘনাদকে বধ করতে ভাই লক্ষ্মণকে অনুমতি দেন। একদিকে তিনি মহাবলী রাবণকে বধ করে প্রিয়তমা সীতাকে উদ্ধার করে আনেন, আবার তিনিই অযোধ্যার রাজা হয়ে প্রজাদের মতকে সম্মান জানিয়ে সেই সীতাকেই অগ্নিপরীক্ষায় প্রবৃত্ত করেন। প্রতি ক্ষেত্রেই ধর্ম পালনে তিনি আপোষহীন। আবার অধর্মের বিনাশে তিনি নির্মম।