জলঙ্গী নদীকে বাঁচাতে সেভ জলঙ্গীর আহব্বানে কৃষ্ণনগরে মানববন্ধন

আজবাংলা    ভেনডেন ব্রুক তাঁর লেখায় দ্য গলগ্যাটসি স্প্রুইস বলেছেন। আদ্যন্ত নদিয়ার নদী জলঙ্গি ছিল নদিয়ার প্রধান বাণিজ্য পথ আর সেটাই তার কাল হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকেরা নদীর বাঁক ছেঁটে বাণিজ্যপথ আরও প্রশস্ত করতে নদীর মৃত্যুর পথটাই বেশ কিছুটা প্রশস্ত করে দিয়েছিল। মানুষের লোভ আর প্রশাসকের উদাসীনতা এই দুইয়ে মিলে একটু একটু করে হারিয়ে যেতে বসেছে জলঙ্গি নদী। যার মূল দৈর্ঘ্য ২২০.৫ কিমি, যার মধ্যে ৪৮ কিমি আজ আর নেই। কোথাও চাষের জমি তো কোথাও রাজ্যসড়ক খেয়ে ফেলেছে জলঙ্গিকে। অবশিষ্ট ১৭২.৫ কিমিও বড় বিপন্ন। বিশেষ করে ইটভাটা, মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, উন্নয়নমূলক নির্মাণ এবং অত্যধিক পরিমাণে নদী থেকে জল তুলে নেওয়া--এইসবের কারণে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে জলঙ্গি । কিছুদিন ধরেই জলঙ্গিতে পলি জমা, কচুরিপানায় ভরতি হওয়া, কালো রঙের জলে দুর্গন্ধ, মাছের মৃত্যু ঘিরে জেলাজুড়ে মৎস্যজীবী, কৃষিজীবী থেকে নদিয়াবাসী এক ঘোরতর সমস্যার সম্মুখীন। বিষয়টি যে প্রবল উদ্বেগের, সে কথা প্রশাসনিক কর্তারাও স্বীকার করছেন। এ হেন জলঙ্গির কঙ্কালসার শরীরকে সুস্থ করার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টে পৌরসভা থেকে পোস্ট অফিস মোড় 'সেভ জলঙ্গী'র উদ্যোগে নদীকে বাঁচাতে, প্লাস্টিক বর্জন করতে, সমাজ কর্মীদের ওপর আক্রমনের প্রতিবাদে হলো মানববন্ধন। এই অনুষ্ঠানে কৃষ্ণনগর ও কৃষ্ণনগরের বাইরের অনেক পরিবেশ সংগঠন অংশ নেন। ব্যাক্তিগত স্বার্থে নয়, শহরের স্বার্থে আসুন, শহর ভালোবেসে আসুন। এই শহরটা আমাদেরও।প্রতিবাদে সামিল ছিলো ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সের প্রত্যেক স্তরের মানুষ। জলঙ্গী বাঁচাতে ও প্লাষ্টিক বর্জন করতে শহরের সকল মানুষ হাতে হাত ধরে মানববন্ধনে অংশ নেয়। চলে পথ নৃত্য, পরিবেশ কর্মীদের বক্তব্য পাঠ। মানববন্ধনে শহরের মানুষের অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো।