প্রতি মঙ্গলবারে মা মঙ্গলচন্ডী পূজা করলে দূর হয় অভাব অনটন

প্রতি মঙ্গলবারে মা মঙ্গলচন্ডী পূজা করলে দূর হয় অভাব অনটন

আজবাংলা   মঙ্গলচণ্ডী সকল বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতি দেবীর মুখ হইতে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উত্‍পন্না হইয়াছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁহাকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবী হ'তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন।

দেবীভা-৯স্ক-১। দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন। দেবীভা-৯স্ক-৪৭। 

মঙ্গলচণ্ডী ব্রত

=========

প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এ ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এসে ধরা দেয়।

যথা ---  সোনার মা ঘট বামনী। রূপোর মা মঙ্গলচণ্ডী।। এতক্ষণ গিয়েছিলেন না কাহার বাড়ি? হাসতে খেলতে তেল সিন্দুর মাখতে পাটের শাড়ি পরতে সোনার দোলায় দুলতে হয়েছে এত দেরী। নির্ধনের ধন দিতে কানায় নয়ন দিতে নিপুত্রের পুত্র দিতে খোঁড়ায় চলতে দিতে হয়েছে এত দেরী।

- অভীষ্ট সিদ্ধিমানসে হিন্দু মহিলা মঙ্গলবারে মঙ্গলচণ্ডী দেবীর অর্চনা ও ব্রত উপসাবাদি করে থাকেন। ধনপতি সওদাগরের পত্নী খুল্লনা প্রথম মঙ্গলচণ্ডীদেবীর পূজার প্রবর্তন করেন। এই খুল্লনার নামানুসারেই বাংলাদেশের 'খুলনা' জেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি।

- দেবীর করুণাশক্তি অমোঘ। তাঁর শরণাগত হলে নির্ধন ধনী হয়, অন্ধ নয়ন পায়, বন্ধ্যা পুত্র লাভ করে, খঞ্জ চরণযুক্ত হয়। সংসারজীবনে এই মঙ্গলময়ীর আরাধনা তাই একান্তই প্রয়োজন। কুমারীজীবন থেকেই তারা আরাধনা শুরু করে এবং সমগ্র জীবনব্যাপী তা চলতে থাকে।

অতি প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় সংসারের মঙ্গল কামনায় মহিলা গন মঙ্গলচণ্ডীর পূজো করে থাকেন। পুরানের দেবী চণ্ডী অস্ত্রধারিনী, অসুর মর্দিনী। কিন্তু মঙ্গলচণ্ডী দেবীর যে পট ছবি আমরা দেখি তাতে তিনি দ্বিভুজা, হাতে পদ্ম পুস্প, পদ্মাসীনা। সমগ্র মাতৃত্বের রূপ দেবীর মধ্যে প্রস্ফুটিত। চণ্ডীদেবীর কথা বৃহধর্ম পুরানে পাওয়া যায় ভবিষ্যপুরানে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের উল্লেখ আছে।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে ইনি কেবল স্ত্রীলোকের দ্বারা পূজিতা বলা হয়েছে। চণ্ডীমঙ্গল কাব্য অনুসারে চন্ডীদেবীর আবির্ভাবের প্রথম পর্বে দেখি কালকেতু ও ফুল্লরার কথা। কালকেতু জাতিতে শবর ব্যাধ, তার পত্নী ফুল্লরা এক শবরী । কালকেতু বনে শিকার করে মাংস হাটে বিক্রি করে সংসার চালাতো।

একদা দেবী চণ্ডী তাঁদের গৃহে ছদ্দবেশে এসে পরীক্ষা নেন। কালকেতু ও ফুল্লরাকে শেষে দশভুজা রূপে দর্শন দিয়ে তাঁদের গুজরাট প্রদেশের অধিপতি করেন।

মঙ্গলচণ্ডিকা পূজা মন্ত্র

==============

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং সর্বপূজ্যে দেবী মঙ্গলচণ্ডিকে। 

শিবশম্ভুপাঠকৃত মঙ্গলচণ্ডিকা স্তোত্র

======================

রক্ষ রক্ষ জগন্মাতর্দেবি মঙ্গলচণ্ডিকে। হারিকে বিপদাং রাশর্হর্ষমঙ্গলচণ্ডিকে।।

হর্ষমঙ্গলদক্ষে চ র্হর্ষমঙ্গলচণ্ডিকে। শুভে মঙ্গলদক্ষে চ শুভমঙ্গলচণ্ডিকে।।

মঙ্গলে মঙ্গলার্হে চ সর্ব্ব মঙ্গলমঙ্গলে। সতাং মঙ্গলদে দেবি সর্বমঙ্গলালয়ে।।

পূজ্যা মঙ্গলবারে চ মঙ্গলাভীষ্টদৈবতে।। পূজ্যে মঙ্গলভূপস্য মনুবংশস্য সংততম্।।

মঙ্গলাধিষ্ঠাত্রীদেবি মঙ্গলানাং চ মঙ্গলে। সংসার মঙ্গলাধারে মোক্ষমঙ্গলদায়িনি।।

সারে চ মঙ্গলাধারে পারে চ সর্বকর্মণাম্। প্রতিমঙ্গলবারে চ পূজ্যে চ মঙ্গলপ্রদে।।

 শ্রী ব্রহ্মবৈবর্তপূরাণে(প্রকৃতিকাণ্ডের ৪৪/২০-৩২ শ্লোক) মঙ্গলচণ্ডিকা স্তোত্র সম্পূর্ণম্।।