কচুয়ার লোকনাথের মন্দির বিক্ষোভের মুখে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।উঠল 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান।

আজবাংলা উত্তর ২৪ পরগণার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লোকনাথের মাথায় জল ঢালতে এবার কচুয়ায় রেকর্ড ভিড় হয়। সঙ্গে ছিল তুমুল বৃষ্টি। একদিকে রেক্ড ভিড়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভিড়ের চাপে রাত ৩টে নাগাদ ধসে পড়ে মন্দিরের পাশের পাঁচিল।প্রবল ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় অপর্ণা সরকার, পূর্ণিমা গড়াই ও তরুণ মণ্ডলের। আহত হন কমপক্ষে ১৬ জন। আহতদের ন্যাশনাল মেডিক্যাল ও এসএসকেএম-এ নিয়ে আসা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।কচুয়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ঘিরে উঠল 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান। মন্দির কমিটির সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসার পরই বিক্ষোভের মুখে পড়েন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পুণ্যার্থী থেকে স্থানীয়রা। সেইসময় ওই ভিড়ের মধ্যে থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে উদ্দেশ করে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান ওঠে। কোনওরকমে বিক্ষোভ এড়িয়ে গাড়িতে উঠে যান খাদ্যমন্ত্রী। কচুয়াতে লোকনাথধামে পদপিষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যুর দায় আড়াল করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন রাস্তার ধারে অস্থায়ী স্টলগুলি থেকে টাকা পায় মন্দির কমিটি, ফলে তাঁরা যেখানে খুশি স্টল বসিয়ে দেয়’। এছাড়া মন্দিরের ভিতর ট্রাস্টি বোর্ডের কাজকর্মে রাজ্য সরকারকে নাক গলাতে দেয় না বলেও দাবি করেছেন তিনি। মন্দির কমিটি ও রাজ্য প্রশাসন একাধিকবার বৈঠক করেছে এই উৎসবের আগে। কোনও সময় তাঁরা বলেনি কী কী করতে হবে সরকারকে। তবুও সরকার উন্নয়নমূলক কিছু কাজ কচুয়া ও চাকলাধামে করেছে বলেও এদিন দাবি করলেন খাদ্যমন্ত্রী। মন্দির কমিটিকে দুষে তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিডিও ও পুলিশ অস্থায়ী দোকান নিয়ে যে যে নির্দেশিকা জারি করেছিলেন, তার কোনটাই মানা হয়নি। তবে এদিন তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এবার মন্দির কমিটির সঙ্গে বসে মন্দিরে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তায় এমএস পাইপ দিয়ে ব্যারিকেড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন। তাহলে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ মন্দিরে ঢুকতে পারবেন না। ফলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমবে। উত্তর ২৪ পরগণার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তীও জানিয়ে দে,ন মন্দিরে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা নিয়ে তাঁদের কাছে কোনও প্রস্তাব ছিল না। সাধারণত প্রতিবছর যেভাবে হয় এবারও সেভাবেই হচ্ছিল। তবে এবার বেশি ভক্তের সমাগম হওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে দাবি জেলাশাসকের। রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, ঘটনার তদন্ত হবে এবং যদি গাফিলতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় তবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।