হু হু করে নামছে পারদ, শীতে কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন জানুন 

হু হু করে নামছে পারদ, শীতে কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন জানুন 

আজ বাংলা: হু হু করে পারদ নামছে বাংলায়। বাংলা থেকে বর্ষা বিদায় নিতেই নামছে পারদ। ইতোমধ্যে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে ২০-রও নীচে। বছরের অন্যান্য সময় ত্বক, চুলের যেমন পরিচর্যা নেন, শীতকালেও তার দ্বিগুন যত্ন নিতে হবে বৈকি।

সারা বছরই চুলের একটা বেসিক যত্ন প্রয়োজন হয়। কিন্তু শীতকালে একটু বেশি যত্নের প্রয়োজন। শীতকালে আবহাওয়ার কারণেই ত্বক শুকিয়ে যায়। এই সময় শুকিয়ে যায় স্ক্যাল্প অর্থাৎ মাথার তালুও। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকালেই এই সমস্যা বেশি হয়। 

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে তা আরও বাড়তে পারে। এই সময় চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। স্ক্যাল্পে ময়শ্চার কমে যায়। খুশকির সমস্যায় চুলও পড়ে যায় অনেক। চুলের বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে যায়। এছাড়া, শীতকালে বেশিরভাগ সময় টুপি, রুমাল বা স্কার্ফে মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য হই আমরা।

জ্যাকেটের হুডি কখনও চাপিয়ে দেওয়া হয় মাথায়। এতে টুপি জাতীয় জিনিসের সঙ্গে ঘর্ষণে চুলের ক্ষতি হয়। চুল পড়ে যায়। টুপি না পরেও তো উপায় নেই। তাই চুলের আলাদা যত্নের প্রয়োজন। শুষ্ক ত্বক যাঁদের রয়েছে তাঁরা বেশি খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। 

তবে যে কোনও ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রেই শীতকালে খুশকির সমস্যায় বেশি ভোগেন মানুষ। খুশকি আসলে ত্বকের মরা কোষ। ঠিক মতো চুল পরিষ্কার না করলে এ সমস্যা আরও বাড়ে। আর আবহাওয়ার কারণে আপনি এড়িয়েও যেতে পারবেন না। তার থেকে যত্ন নেওয়াই শ্রেয়। বাড়িতেই কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন আসুন তাহলে জেনে নিন..

হট অয়েল ট্রিটমেন্ট: শীতকালে গরম তেল মাথায় মাসাজ করা খুবই উপকারি। নারকোল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে লাগাতে পারেন। এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন ডিম এবং মধু। স্নানের এক ঘণ্টা আগে তেল মাসাজ করুন।

স্নানের সময় ভাল করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। একটি পাত্রে নারকেল তেল, আপেল সিডার ভিনিদার এবং মধু মিশিয়ে নিন। চুলে ও মাথার তালুতে লাগিয়ে নিন। আধ ঘণ্টা রেখে দেওয়ার পরে শ্যাম্পু করে নিন। একবারে অনেকটা তৈরি করে রাখতে পারেন।

ব্যবহার করার আগে ঝাঁকিয়ে নিন। বাটার, নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। এতে চুল মোলায়েম হবে। শীতকালে চুলে যে অতিরিক্ত কন্ডিশনারের প্রয়োজন হয়, সেটা পাবেন এই হেয়ার মাস্ক থেকেই।

হেয়ার মাস্ক: দুই চা চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল, এক চা চামচ মধু এবেং তিন চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। আধ ঘণ্টা মতো রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শুকনো চুলের জন্য এই মাস্ক ভাল কন্ডিশনারের কাজ করবে। চুলে বাউন্স আসবে সহজে।

প্রথমেই কলা চটকে নিন। তারপর ভেঙে নিন একটি ডিম। এর মধ্যে তিন টেবিল চামচ দুধ, তিন টেবিল চামচ মধু এবং পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। সব উপকরণ যাতে মিশে যায় সেটা খেয়াল রাখবেন। 

এরপর ধীরে স্ক্যাল্পে এবং চুলে ব্যবহার করুন এই হেয়ার মাস্ক। শীতকালে খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন না। বাইরে বের হলে যাতে চুলে বেশি ময়লা না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সপ্তাহে তিনদিন শ্যাম্পু করলেই যথেষ্ট। হাল্কা গরম জলে চুল ধুয়ে নিন। 

ইয়োগার্ট, লেবু এবং ভিনিগার: শীতের জন্য রেগুলার শ্যাম্পু ব্যবহার না করে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শ্যাম্পু এবং সঙ্গে অবশ্যই ক্রিম কন্ডিশনার বেছে নিন। একটি পাত্রে ইয়োগার্ট নিন। তার সঙ্গে আপেল সিডার ভিনিগার এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে মাথার তালু এবং চুলে লাগিয়ে নিন।

আধঘণ্টা রেখে দেওয়ার পর রেগুলার শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করার সময় কয়েক ফোঁটা তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল সিল্কি হবে, রুক্ষতাও কম হবে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, তেল মাখা অবস্থায় রাস্তায় বের না হওয়াই ভালো। এতে চুলে অনেক বেশি ময়লা জমে যায়। ফলে বারবার শ্যাম্পু করতে গিয়ে চুলের স্বাভাবিক আদ্রর্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে তেল লাগান: প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটি পাত্রে নারকেল তেল, জোজোবা অয়েল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। জোজোবা কিংবা অলিভ অয়েল না থাকলে কম খরচে ক্যাস্টর অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। তেলের ওই মিশ্রণকে প্রথমে ফুটিয়ে নিন।

ফোটানোর সময় এতে কাঁচা আমলকির টুকরো ও কিছুটা লেবুর রস যোগ করুন। ঈষদুষ্ণ অবস্থায় চুলের গোড়ায় এই মিশ্রণ লাগান এক দিন অন্তর। সারা রাত মাথায় স্কার্ফ বেঁধে রাখুন। পরের দিন গরম জলে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না।

 

অ্যালোভেরা হেয়ার মাস্ক: এটাও খুব উপকারী একটা উপায়। দুই চা চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল, এক চা চামচ মধু এবেং তিন চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। আধ ঘণ্টা মতো রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শুকনো চুলের জন্য এই মাস্ক ভাল কন্ডিশনারের কাজ করবে।

চুলে বাউন্স আসবে সহজে। শীতের স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় চুল ওঠার সমস্যা বেড়ে যায় তাই যতটা সম্ভব ঘষা লাগা এড়িয়ে চলুন। রাতে চুল বেঁধে শোন। রাস্তায় বেরোলেও চুল বেঁধে রাখুন। পার্টি চুল খোলা রাখতে পারেন কিন্তু সারা দিনের জন্য পিকনিকে গেলে চুল অবশ্যই বেঁধে রাখুন। জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে।