হাসিনা-মোদি-মমতা-বিপ্লব ভিডিও কনফারেন্সে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন

inauguration of three projects in the Hasina-Modi-Mamta-Biplob video conference
শেখ হাসিনা

আজবাংলা  নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলা থেকে অনুষ্ঠানে এক যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন । বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।  বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগের তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় এই তিন   কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি (২য় ব্লক) প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন’ ও ‘আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেলসংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)’  এই ধরনের আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পাতায় লাইক করুন

 

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক, আমরা সেটাই চাই। এর ফলে দুই দেশ আরও একসঙ্গে কাজ করে দুই দেশের জনগণের উন্নতি সাধন করতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় অনেক সাফল্যগাথা আগামীতে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হবে, যা আমরা উদযাপন করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা আমাদের অন্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই আমি আশা করি, আমাদের এই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আমরা দুই দেশের জনগণের সামনে উপস্থিত হতে পারব।’বিদ্যুৎ খাত আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে ভারত থেকে আমরা ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ভারত থেকে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।’ রেলওয়ে খাতেও আমাদের দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মালামাল পরিবহনের জন্য আমরা ১৯৬৫-পূর্ব রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা শীঘ্রই লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারতীয় অর্থায়নে যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের ভিত্তিফলক স্থাপন করতে পারব।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে ১৯৬৫ সালের আগে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যমান রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আখাউড়া-আগরতলা রেল কানেকটিভিটির কাজ পুরো হলে আমাদের আন্তর্দেশীয় সংযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি যোগসূত্র স্থাপিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যে মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন—২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা, তাঁর লক্ষ্য সফল করার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করতে পারাটা একটি গর্বের বিষয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে মমতা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচনে আপনি জিতুন, তখন আমি বাংলাদেশে যাব।’