প্রাক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন কাতারকে রুখে দিল ভারত

কাতারকে রুখে দিল ভারত
কাতারকে রুখে দিল ভারত

আজবাংলা প্রতিপক্ষ কাতার, যারা কিনা এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। ফিফা ব়্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার দলগুলির মধ্যে পাঁচ নম্বরে থাকলেও, কাতারের এই দলটি যে এশিয়ার সেরা দলগুলির মধ্যে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কাতার যে দুর্দান্ত ফর্মে আছে, তার প্রমাণ দেয় তাদের শেষ ম্যাচের ফলাফল। আগের ম্যাচেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হাফ ডজন গোলে জিতেছে কাতার। তাছাড়া সদ্যসমাপ্ত এশিয়ান গেমসে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা গোল দিয়েছে ১৯টি, খেয়েছে মাত্র ১টি।তিন বছর পরে যারা নিজেদের দেশে বিশ্বকাপে খেলতে নামবে, বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছে-সেই কাতারকে তাদের ডেরায় আটকে দিল ভারতীয় ফুটবল দল এ হেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলকে ০-০ গোলে আটকে দিলে ভারত। প্রথমার্থে ভারত পুরোপুরি ডিফেন্সে মনোনিবেশ করেছিল ঠিকই। কিন্তু, আগের ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে যে ডিফেন্স ভারতকে ডুবিয়েছে সেই রক্ষণ এদিন আর ভারতকে হতাশ করেনি। সন্দেশ ঝিঙ্গান, আদিল খান, মন্দার রাও দেশাই, রাহুল বেকেরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেন। তবে, তাদের অনবদ্য পারফরম্যান্স সত্ত্বেও হয়তো ভারতকে প্রথমার্ধে একাধিক গোল হজম করতে হত, যদি না অধিনায়ক গুরপ্রিত সিং দেওয়ালের মতো গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কাতারের ফুটবলারদের একের পর এক শট, একের পর কর্নার দুর্দান্ত দক্ষতায় ভারতীয় অধিনায়ক আটকে দিয়েছেন। দেশের জার্সি গায়ে অন্যতম সেরা ম্যাচটি হয়তো খেললেন গুরপ্রীত।বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে ওমানের কাছে হার। অসুস্থ থাকায় কাতারের বিরুদ্ধে খেলেননি সুনীল ছেত্রী। এমন অবস্থায় দোহায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ইগর স্টিমাচের দল। ভারতে আসার আগে তিনি কাতারের ক্লাবে কোচিং করিয়েছিলেন। তাই কাতারের ফুটবল সম্পর্কে একটা হোমওয়ার্ক ছিলই স্টিমাচের। রক্ষণাত্মক রণনীতি নিয়ে প্রথমার্ধে গোলের দরজা বন্ধ করে দিয়ে কাতারকে আটকে রাখা। আর দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ সামলে, সুযোগ বুঝে-অঙ্ক কষে প্রতি আক্রমণে যাওয়া। এর ফলে কাতারের যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পাল্টা দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করে কাতার। কিন্তু দুরন্ত গুরপ্রীত কাতার আক্রমণের সামনে চিনের প্রাচীর হয়ে উঠলেন। মঙ্গলবার দোহায় ভারতের সাফল্যের কারিগর অবশ্যই কোচ ইগর স্টিমাচ আর গুরপ্রীত সিং সিন্ধু।