করোনা মোকাবিলায় এবার ভারত পথ দেখাবে বিশ্বকে- দাবি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আজবাংলা     কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। পরের ১১ দিনে আরো এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়, আর পরের এক লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র চার দিন।বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৬০২ জন। সব মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬০৭৭ জনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৫৫৭ জন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৩১২ জনের। অর্থাৎ মৃত্যুর পরিমাণ মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশের একটু বেশি। আর এই ভাইরাসের কবল থেকে ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৩৭১ জন। এই পরিমাণ আক্রান্তের হিসেবে ২৭ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ প্রতি চার জন আক্রান্তের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।ভারতে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭১ জন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৪ জন। ইতিমধ্যেই দেশের ৩০ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ট্রেন ও ঘরোয়া বিমান পরিষেবা। বিদেশ থেকে আসা বিমানে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। মানুষকে ঘর থেকে বেরাতে নিষেধ করা হয়েছে।মহামারি ঠেকাতে একটি "বৈশ্বিক যুদ্ধবিরতির" আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সংঘাত চলতে থাকলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষ-"নারী ও শিশু, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু ও বাস্তুচ্যুতদেরকেই" সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে। তখন আশার কথা শোনালেন হু-র কর্তা মাইকেল জে রায়ান। তাঁর মতে, মহামারী মোকাবিলার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা আছে ভারতের। অতীতে স্মল পক্স ও পোলিও মহামারী মোকাবিলা করেছে ভারত। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তারা কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখবে।একইসঙ্গে রায়ান বলেছেন, “ভারতে কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভারত খুবই জনবহুল দেশ। ওই দেশ এর আগে দু’টি মহামারীর মোকাবিলা করেছে। সুতরাং এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা ভারতের আছে।করোনাভাইরাস সংক্রমণ কবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া খুব শক্ত। ভারতের মতো দেশ অতীতে সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে, আগামী দিনেও দেখাবে বলে আশা করা যায়।