অবশেষে চলে গেলেন ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি পদ্মশ্রী পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজবাংলা     দীর্ঘ রোগভোগের পর শুক্রবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবলে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। সোমবার বিকেলের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কোনও ওষুধই কাজ করছিল না। কিডনি সচল রাখার জন্য ডায়ালিসিস চললেও পিকে তা আর নিতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। দুপুর দুটো আট মিনিটে শেষ হয়ে গেল তাঁর লড়াই। তাঁর প্রয়াণে ময়দানে নেমে এল শোকের ছায়া।  বেশ কিছু সময় ধরেই অসুস্থ ছিলেন ময়দানের প্রিয় 'পিকে'। মূলত শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রায় মাস দেড়েক আগে হাসপাতালে ভর্তি হন পিকে। তাঁর পার্কিনসন, হার্টের সমস্যা ও স্মৃতি বিভ্রমও হচ্ছিল। এর সঙ্গে রয়েছে বয়সজনিত সমস্যাও। চলতি মাসের শুরু থেকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে।তা সত্ত্বেও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা মেটেনি। বরং সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। ক্রমশ মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওয়ের দিকে যাচ্ছিলেন কিংবদন্তি প্রাক্তন ফুটবলার। যা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল ডাক্তারদের।ফুটবলার জীবনে বড় ক্লাবের হয়ে কোনওদিন খেলেননি তিনি। ইস্টার্ন রেলের হয়ে খেলেছেন। ১৯৫৮ সালে কলকাতা লিগ জিতেছিল ইস্টার্ন রেল।সেই চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন পিকে। ক্লাব পর্যায়ে যেমন সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি, জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি দারুণ সফল।১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। চার বছর পরে রোম অলিম্পিক্সে দেশের অধিনায়কত্ব করেন পিকে। কোচ হিসেবে দারুণ সফল তিনি। লিগ, ডুরান্ড, শিল্ড-সহ একাধিক ট্রফি জিতেছেন। মাঠে নেমে চিরকাল লড়াই করেছেন তিনি। কোচ হিসেবে অনেককঠিন লড়াই জিতেছেন। জীবনের অন্তিম লড়াইটা আর জেতা হল না তাঁর। তিনি চলে গেলেও রূপকথা হয়ে থেকে গেল তাঁর বর্ণময় জীবন।পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। নবান্নে তিনি জানান, 'ক্রীড়াজগৎ এক নক্ষত্রকে হারাল।' শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও।