ক্যানসার গবেষণায় হলুদের ব্যবহারে বিরাট সাফল্য ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

ক্যানসার গবেষণায় হলুদের ব্যবহারে বিরাট সাফল্য ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

আজবাংলা  অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে হলুদের আছে শক্তিশালী ক্যান্সার বিধ্বংসী ক্ষমতা। গবেষকদের মতে এই হলদে রঙের মশলাটি আমাদের যকৃৎকে সুস্থ রাখতে পারে ও শরীরকে রক্ষা করতে পারে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও অন্যান রোগ থেকে।

ক্যান্সার নিরাময়ের চিকিৎসায় হলুদের একটি উপাদান ব্যবহার করে মিশ্রণের অনু ‘কারকিউমিন’ ব্যবহার করে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণা পদ্ধতিকে পেটেন্ট দিয়ে স্বীকৃতি দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়ন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা মার্কিন এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান লিসি কৃষ্ণাণ।

তিনি বলেন  হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে ভর্তি। হলুদের একটি উপাদান ‘কারকুমিন’ সরাসরি ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলির উপর প্রভাব ফেলে। অন্য কোনও পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গেলে সাধারণত ক্যানসার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও অন্যান্য কোষগুলির উপরেও তার প্রভাব পড়ে।

কিন্তু এক্ষেত্রে ক্যানসার আক্রান্ত কোষের আশাপাশের সুস্থ কোষগুলিতে তার কোনও প্রভাব পড়ে না। কৃষ্ণাণ আরও জানিয়েছেন, হলুদের মধ্যে ক্যানসার নিরাময়ের অনেক উপাদান রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ণ হল এই কারকুমিন। এই কারকুমিন শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে রক্ত জমাট বাঁধা আটকায়।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের অনুদানে গঠিত এই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হলুদের এই উপাদান এমনভাবে ব্যবহার করা যা সরাসরি ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারকুমিন টিস্যু ফ্লুইডের মাধ্যমেই শরীরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, একবার অস্ত্রোপচার হয়ে যাওয়ার পর ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোর আশপাশের কোষকে সুরক্ষিত রাখে হলুদের এই উপাদান।

সেখানে কোনও রকমের রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে নতুন করে ক্যান্সার ফিরে আসার আশঙ্কাও থাকে না। ইতোমধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত বিভিন্ন পশুর শরীরে হলুদের কারকিউমিন অনু ব্যবহার করে চিকিৎসা পদ্ধতিতে সফলতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট।

শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা আশা কিশোর জানিয়েছেন মার্কিন পেটেন্ট পাওয়ার পর আমাদের এই গবেষণার মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যান্সার গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি।কারকিউমিন (Curcumin) হচ্ছে হলুদের একটি কার্যকরি উপাদান। একের পর এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এই কারকিউমিন ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।