করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ইতালিতে ১৩৩ জনের মৃত্যু

আজবাংলা      ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইটালি মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুমিছিল থামছেই না চিনে। আজ আরও ২৭ জন করোনা-আক্রান্তের মৃত্যু নিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াল ৩,০৯৭-এ। বেজিং সরকারি ভাবে সংক্রমণ কমছে বললেও, ও-দিকে রোমের আশঙ্কা ক্রমে বেড়েই চলেছে। করোনা-ধাক্কায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত ইউরোপীয় দেশ ইটালি। ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৬৬–তে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইতালিতে করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুসারে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৮৩ থেকে ৭ হাজার ৩৭৫–এ পৌঁছেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আজই দেশের উত্তরাঞ্চলের ১ কোটি ৬০ লক্ষ নাগরিককে ‘কোয়ারেন্টাইন’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোম। ইতালিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নানান পদক্ষেপ কার্যকরের মধ্যেই এই বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এসেছে। নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, নতুন কোয়ারেন্টাইন (রোগ সংক্রমণের শঙ্কায় পৃথক রাখা) নিয়মের অধীনে লোম্বার্ডি এবং ১৪টি প্রদেশের ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে ভ্রমণের জন্য বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। ইতালির উত্তরাঞ্চল লোম্বার্ডিতে প্রায় এক কোটি লোকের বাস। সেখানে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। লোকজনকে হাসপাতালের করিডরে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। লোম্বার্ডির প্রধান শহরের নাম মিলান। নতুন বিধিনিষেধের আওতায় ওই অঞ্চল থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না, কেউ সেখানে প্রবেশও করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী জুজেপ্পে কোন্তে দেশটি জুড়ে স্কুল, জিম, জাদুঘর, নাইটক্লাব এবং অন্যান্য ভেন্যু বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ বিধি-নিষেধ বহাল থাকবে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজারে পৌঁছেছে। মারা গেছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জন। এর বেশির ভাগই চীনের। সেখানে এখন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমে এসেছে। চীনের বাইরে ইরানও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে এখন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৬৬ জন এবং মারা গেছে ১৯৪ জন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।