সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক জামাল খাসোগি কোথায়

Jamal Khasogi, the hard critic of Saudi Prince Mohammad bin Salman?
জামাল খাসোগি

আজবাংলা  জামাল খাসোগি আসলে কোথায়, বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন—সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুরস্ক বলছে, সৌদি কনস্যুলেটেই হত্যা করা হয়েছে খাসোগিকে। ভিডিও, অডিওসহ তথ্যপ্রমাণও হাজির করেছে তারা। তবে সৌদি আরব সেসব উড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব বলছে, খাসোগি কনস্যুলেটে ঢোকার পরই বের হয়ে গেছেন। তাহলে কোথায় উধাও হলেন তিনি? সৌদি আরবের মসনদে সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ থাকলেও দেশটির ক্ষমতার চাবিকাঠি যুবরাজের হাতেই। ৬০ বছর বয়সী প্রাক্তন এই সরকারি উপদেষ্টা সৌদি আরবে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন কাটাতেন। ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর থেকে জামাল খাসোগিকে আর দেখা যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে, খাসোগি নিতান্ত ব্যক্তিগত কারণে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন। প্রাক্তন স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার প্রত্যয়নপত্র নিতে তিনি সেখানে যান। ওই প্রত্যয়নপত্র পেলে তিনি তুর্কি প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে পারতেন। কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে খাসোগি তাঁর মোবাইল ফোনটি চেঙ্গিসের হাতে দেন। চেঙ্গিস জানান, কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে খাসোগিকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। কোনো শঙ্কা কাজ করছিল তাঁর মনে। বলে গিয়েছিলেন, কনস্যুলেট থেকে বের না হলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের উপদেষ্টাকে ফোন করতে। সেই শঙ্কাই সত্যি হয়েছে। জামাল খাসোগিকে সৌদি আরব হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তুরস্কের। তুর্কি সরকার–সমর্থক দৈনিক সাবাহর খবরে জানানো হয়, জামাল খাসোগিকে হত্যা করতে সৌদি আরব ১৫ সদস্যের স্কোয়াড নিয়োগ দিয়েছিল। রিয়াদ থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তারা ইস্তাম্বুলে আসে। ওই দলে খাসোগির মরদেহ টুকরো টুকরো করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন। তিনি হাড় কাটার জন্য করাত নিয়ে গিয়েছিলেন। দুই ঘণ্টার মধ্যে খাসোগিকে হত্যার পর ওই দলটি তুরস্ক থেকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। সৌদি আরব অবশ্য এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জামাল খাসোগি কনস্যুলেট ভবনে গিয়েছিলেন এবং পরে বেরিয়েও যান। তুরস্ক এর প্রমাণ চেয়েছে। এতে দমেনি সৌদি আরব। জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে তুরস্কের তদন্ত দল তল্লাশি করতে পারবে।