জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনেই খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া

আজবাংলা  খালেদা জিয়ার সাজার কথা উল্লেখ করে ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদ উজ জামান আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। মামলায় সাজার বিষয়টি উল্লেখ করে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। বগুড়া-৬ আসনে বগুড়া পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবুর রহমানের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। তবে ওই আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। দুর্নীতির মামলায় তাঁর দণ্ড হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি সাজা হলে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না । এ কারণে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এসব আসনে বিএনপির সঙ্গে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। এবারও দুটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের চেয়ারপারসন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।  এদিকে বগুড়া-৬ আসনে জাকের পার্টির ফয়সাল বিন শফিক এবং বগুড়া-৭ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা সভাপতি মোস্তফা আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তাঁর দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।  এবারের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় এ আসনে বিকল্প প্রার্থী করা হয় গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটনকে। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেননি উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মোরশেদ মিল্টন জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করে কাগজপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন আগেই। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন—এমন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি মোরশেদ মিল্টন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিরুদ্ধে মোরশেদ মিল্টন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
ওই আসনে জাপার বর্তমান সাংসদ মুহাম্মদ আলতাফ আলীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।