যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান দখল করে তাক লাগিয়ে দিল মালদার ছাত্রী নওরীন খাতুন

কৃতি ছাত্রী নওরীন খাতুন
কৃতি ছাত্রী নওরীন খাতুন

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা   জরাজীর্ণ টালির চাল দেওয়া বাড়িতে থেকে টোটো চালকের মেয়ে উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান দখল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গ্রামবাসীদের ।ইংলিশবাজার ব্লকের নরহাটটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া হাই মাদ্রাসার ছাত্রী নওরীন খাতুন এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৮৮ পেয়েছে।  বুধিয়া স্ট্যান্ডের কাছে ওই ছাত্রীর বাড়ি। পরিবারে বাবা ফিরোজ হোসেন , মা তাজমিরা বিবি ছাড়াও রয়েছে চারভাইবোন।  বাড়ির মেজো মেয়ে নওরীন খাতুন। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮’র মধ্যে নওরীন বাংলায় পেয়েছে ৯৬,  ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৪, ভূগোলে পেয়েছে ৯৭, ইতিহাসে পেয়েছে ৯৮, সমাজবিদ্যা ১০০ এবং এডুকেশনে পেয়েছে  ৯৭ । গরিব ঘরের মেয়ে নওরীন খাতুনের এই ফলাফলে খুশি পরিবার থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ।  পাড়া-প্রতিবেশীরাও ওই ছাত্রী ফলাফলে খুশি। বুধিয়া হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান জানিয়েছেন,  নওরীন খাতুন মেধাবী ছাত্রী। গরিব পরিবার হলেও সে পড়াশোনায় এই মাদ্রাসায় সবার থেকে এগিয়ে।  নওরীন খাতুন রাজ্যে যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান দখল করেছে। তার এই ফলে বুধিয়া মাদ্রাসার নাম উজ্জ্বল করেছে। আমরা চাই শিক্ষার ক্ষেত্রে ওর ভবিষ্যৎ যেন আরও উজ্জ্বল হয় । ওকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। বুঝিয়া স্ট্যান্ডের কাছে দীর্ঘ দিন আগেই একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান ছিল নওরীন খাতুনের বাবা ফিরোজ হোসেনের । সেই দোকান বন্ধ করে কোন রকমে ধারদেনা করে একটি টোটো কিনে চালাচ্ছেন ফিরোজ সাহেব । পরিবারে তিন মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে সালমা পারভীন,  উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেছিল।  বর্তমানে সে মালদা কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে বিএ ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে।  মেজো মেয়ে নওরিন খাতুন নরহাটটা হাইস্কুল থেকে ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিকে পাস করেছিল।  বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয় নি। ওই ছাত্রীর মা তাজমিরা বিবি বলেন , আমি এবং আমার স্বামী বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারি নি।  কিন্তু আমার মেয়ের ফলাফলে ভীষণ খুশি । মেয়ের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ গড়ার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। কারণ আমাদের অভাবের সংসার । স্বামী টোটো চালিয়ে সামান্য রোজগার করেন।  তার উপর এত বড় সংসার কোন কষ্ট চলছে।  একটি ঘর এই চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকি।  মেয়ের পড়ার ক্ষেত্রে যাতে বাঁধা না আসে তার জন্য সকলের কাছে সাহায্যের আরজি জানাচ্ছি। কৃতি ছাত্রী নওরীন খাতুন বলেন,  খুব কষ্ট করে ভূগোল এবং ইংরেজির গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েছি। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাকে সব রকম ভাবে সাহায্য করেছেন। ভবিষ্যতে আমি অধ্যাপক হতে চাই । আমার মতোন গরীব গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে পড়াতে চাই । কিন্তু আমার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থ এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অভাবের পরিবারে কেউ যদি সাহায্য করেন তাহলে বাবা – মা অন্তত দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারবেন। আমিও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক দিক দিয়ে বাঁধা মুক্ত হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবো।