করোনায় জীবন দিয়ে মৃত্যুকে হারালেন ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি

Jujapo Brdali the high priest lost his life in Corona

আজবাংলা    সারা বিশ্বেও লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। মোট মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ১৬৯ জন। করোনায় আক্রান্ত ৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৬২৩ জন। তবে এর পাশাপাশি সুস্থও হয়ে উঠেছেন লক্ষাধিক মানুষ। ভয়াবহ সংকটের সময় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আরেকজনের জীবন বাঁচাতে ফাদার জুয্যাপোর মতো মানুষের কাহিনিও আছে। ইতালির ৭২ বছর বয়সী খ্রিষ্টান ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি।

তাঁকে দেওয়া হয়েছিল লাইফ সাপোর্ট। কিন্তু তা খুলে অচেনা এক কম বয়সী রোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ওই রোগী তাঁর পরিচিত কেউ নন। এই ফাদারের মৃত্যু হয়েছে দিন দশেক আগে। ইতালির কাসনিগোর জুভার্নি বাতিসতার একটি চার্চের ফাদার হলেন জুয্যাপো বিআরদালি। ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি গত ১৫ বা ১৬ মার্চ মারা যান বলে জানাগেছে।ফাদার জুয্যাপো ইতালির বার্গামোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইতালিতে এই শহরটিতে বহু মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।ইতালিতেও ভালো খবর আছে।

সেই ভালো খবরের নাম হলো ইতালির ছোট্ট শহর ভোঁ। এ শহরে সব বাসিন্দাকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করার পর দারুণ সফলতা পাওয়া গেছে। শহরটিতে এখন সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। আর দেশটিতে অন্তত ৫০ জন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়ার অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া ক্রিসান্তি এবিসির দ্য ওয়ার্ল্ড টুডেকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে পরীক্ষা করেছি। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করি।’

তিনি আরও জানান, মোট বাসিন্দার ৩ শতাংশ (৮৯ জন) মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কোনো লক্ষণ নেই, এমন মানুষের শরীরেও করোনা শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি গবেষকদের জন্য ছিল খুবই উদ্বেগের। ভোঁ শহরে সংক্রমণ শূন্যে নেমে এসেছে। সব নাগরিকের করোনা পরীক্ষার পর মেলে এই সফলতা।’ নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির বাসিন্দাদের প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। দেশটিতে বসবাসরত মাঝবয়সী জনসংখ্যা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্য লোকাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে যারা এই সংক্রমণে মারা গেছে, তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!