হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মতুয়া নয় মৈথিলি ব্রাহ্মণ বিস্ফোরক দাবি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের

আজবাংলা      যে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের ভরসায় ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকে একের পর এক ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসি চওড়া হয়েছে, সেই মতুয়ারাই এ বার মুখ ফিরিয়ে নিছে তৃণমূলের দিক থেকে।কলকাতায় তৃণমূলের এনআরসি নিয়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদে ধরা পড়ল দ্বন্দ্বের ছবি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।সোমবার মাঝরাতে লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুযায়ী, মতুয়া-সহ শরণার্থীহিসেবে এদেশে আশ্রয় নেওয়া সমস্ত হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে, 'শরণার্থী'র মতো পরনির্ভরশীল একটা পরিচয় ছেড়ে দেশের 'নাগরিক' বলে সম্মান পেতে চলেছেন। যা নিয়ে তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস আছে। তাহলে তার প্রতিবাদ কেন? ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে এদিন ধরনায় বসে মতুয়ারা। কিন্তু, সেই ধরনার কথা কিছুই জানতেন না মমতাবালা ঠাকুর। সংগঠনের সংঘাধিপতি দাবি করেন, আন্দোলন কর্মসূচি তাঁদেরই কিনা, তা তিনি জানেন না।তাই মতুয়া ভক্তদেরও বড় একটা চোখে পড়েনি সেই সভায়।কিন্তু কেন এমন অবস্থা হল তৃণমূলের? লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ থেকে প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি ভোটে হেরে গিয়েছিলেন মমতাবালা ঠাকুর। তবে কি তারপর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের?  মতুয়া ধর্নায় মমতাবালার অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা যখন বাড়ছে, তখনই সেই আগুন যেন ঘি দিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মন্তব্য, "কে এল, কে এল না, তাতে কিছু যায় আসে না। মতুয়া কোনও পরিবারের না। উনি আসবেন, আসবেন না, ওনার ব্যাপার।" তিনি আরও বলেন, "কংগ্রেস কোর্টে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেসও কোর্টে যেতে পারে। এই আইন আমরা মানি না।" শুধু তাই নয়, মতুয়াদের এক বই সামনে এনে জ্যোতিপ্রয় মল্লিক এদিন আরও তোপ দাগেন যে "হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মৈথিলি ব্রাহ্মণ। মতুয়া না।" প্রসঙ্গত আজকেও সঙ্ঘাধিপতি মমতা বালা ঠাকুর না আসায়, এবার তাঁকে ছাড়াই মতুয়াদের নিয়ে এগোনোর কথা ভাবছে শাসকদল। আর সেই জন্যই হরিচাঁদ-গুরুচাঁদকে মতুয়া মানতে নারাজ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।