কামাখ্যা শক্তি পীঠঃ ৫১ পীঠের একটি অন্যতম সতীপীঠ কামাখ্যা শক্তি পীঠ

কামাখ্যা শক্তি পীঠঃ  ৫১ পীঠের একটি অন্যতম সতীপীঠ  কামাখ্যা শক্তি পীঠ

আজবাংলা         আসামের রাজধানী গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত এই মন্দির। দেবীর যোনিদেশ পড়েছিল বলে এখানকার আরাধ্যা দেবীর নাম কামাখ্যা। মন্দিরের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে আছে ভৈরবের মন্দির। ভৈরব এখানে উমানন্দ।

এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম | দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা "রক্তক্ষরণকারী দেবী" বলা হয় | ৫১ পীঠের একটি অন্যতম শক্তি পীঠ | কথিত আছে এখানে সতীর যোনি পড়েছিল । প্রতি বছর জুন মাসে ৪ দিনের জন্য বন্ধ থাকে মা কামাক্ষ্যার পুজো । বলা হয় এই সময় বার্ষিক ঋতুদর্শন হয় দেবী মায়ের । পঞ্চম দিনে ফের মন্দির খোলা হয় । এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও আছে। এই মন্দিরগুলিতে দশমহাবিদ্যা অর্থাৎ কালী , তারা , ষোড়শী , ভুবনেশ্বরী , ভৈরবী , ধূমাবতী , ছিন্নমস্তা ,বগলামুখী , মাতঙ্গী ও দেবী কমলা – এই দশ দেবীর মন্দিরও রয়েছে।

এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এই মন্দির একটি পবিত্র তীর্থ। কামাখ্যা মন্দির চত্বরের অন্যান্য মন্দিরগুলিতেই একই রকম যোনি-আকৃতিবিশিষ্ট পাথর দেখা যায়, যা ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনের জল দ্বারা পূর্ণ থাকে | 

হিন্দুশাস্ত্রে কামাখ্যা মন্দিরের এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এই মন্দির একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র । জুন মাসে ওই সময় মায়ের আশীর্বাদ নিতে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ ভক্ত আসেন কামাক্ষ্যায়। সেই উপলক্ষ্যে বিশাল মেলা বসে । তবে এই বছর করোনা ভাইরাসের কারণে ৪০০ বছরের সেই রীতি স্থগিত রাখা হয়েছিল |

নবরাত্রি উপলক্ষে প্রতিবার সেজে ওঠে গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দির | দলে দলে ভক্তেরা কোলে কন্যাদের নিয়ে কুমারী পুজোর উদ্দেশ্যে জড়ো হন মন্দির প্রাঙ্গণে | ষোলো বছরের কম অরজঃস্বলা কুমারী ছোট মেয়েকেই পুজা করা হয় | কুমারীকে গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করিয়ে শুদ্ধ করে, তাকে লাল বেনারসী পরিয়ে ফুল, গয়না ও পায়ে আলতা দিয়ে সাজিয়ে আনা হয় পুজোর জন্য ৷ নয় ব্রাহ্মণ কন্যাকে পুজো করা হয় নবমীর দিন ৷