১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে কালী রূপে পূজিতা নলাটেশ্বরী, পূজিতা হন মা দুর্গা রূপেও

১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে কালী রূপে পূজিতা নলাটেশ্বরী, পূজিতা হন মা দুর্গা রূপেও

আজবাংলা      নলাটেশ্বরী থেকেই শহরের নাম নলহাটি। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের শহর নলহাটি। হিন্দুদের ৫১ সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম শক্তিপীঠ নলাটেশ্বরী। কথিত আছে, এখানে সতীর গলার নলি পড়েছিল। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের শহর নলহাটি। এখানকার পাথরশিল্পের কদর রয়েছে সারা ভারতে। 

নলাটেশ্বরী মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য এখানে মন্দিরের পিছনেই রয়েছে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষদের মাজার। যা সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। 

জানা যায়, নলাটেশ্বরী মন্দিরে বছরে দু' বার বিশেষ পুজো হয়। দুর্গাপুজোর চারদিন মাকে দুর্গা রপে পুজো করা হয়। আর কালীপুজোর দিন মা নলাটেশ্বরীকে কালী রূপে পুজো করা হয়। 

শক্তিপীঠ নলাটেশ্বরী মন্দিরে রাতে ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে মায়ের বিশেষ আরতি করা হয়। পাশাপাশি  নিশি অমাবস্যায় মায়ের মন্দিরে হোম যজ্ঞ করা হয়। বহু মানুষ মনস্কামনা পুরণ করতে মায়ের সামনে পাঁঠা বলি দেন। 

নলাটেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্যশিল্প বহু প্রাচীন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে মন্দিরের গায়ে রয়েছে গুপ্ত স্থাপত্যের নিদর্শন। চারচালা মন্দিরের গর্ভৃগৃহে প্রস্তরখণ্ডে কালিকারূপী দেবী নলাটেশ্বরী। প্রস্তর মূর্তির উচ্চতা প্রায় চার ফুট। সিঁদুরে রাঙানো মুখমণ্ডল। মাথার ওপর চাঁদির ছাতা। সুদীর্ঘ ভ্রু। দেবীর এখানে ত্রিনেত্র অর্থাত্‍ তিনটি চোখ। দুদিকে দাঁতের মধ্যস্থলে সোনার তৈরি বিশাল জিহ্বা। 

মূল মন্দির নির্মাণ করান নাটোরের রানী ভবানী। এখন ট্রাস্টি কমিটি পুজো পরিচালনা ও  সব কাজ দেখাশোনা করে। মন্দিরের উত্তর দিকে রয়েছে পঞ্চমুন্ডির আসন।

 ১২৯৬ সালে জনৈক স্বামী কুশলানন্দ ব্রহ্মচারী কাশী থেকে প্রথমে তারাপীঠে আসেন। সেখান থেকে নলহাটিতে এসে পঞ্চমুন্ডি আসন প্রতিষ্ঠা করে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। মন্দিরের উত্তরে সেই সিদ্ধাসন আজও বর্তমান।  

দেবী নলাটেশ্বরীর পুজোর প্রধান উপকরণ চাঁছি ও পেঁড়ার সন্দেশ। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর প্রস্তর বিগ্রহের অঙ্গরাগ হয়। ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে। বর্তমান মন্দিরে আধুনিকতার ছাপ লেগেছে।  

সন্ধে হতেই এলইডি আলোয় সেজে ওঠে দেবীগৃহ। অন্ধকার যত গাঢ় হয়, তত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে হোমের অগ্নিশিখা। মাতৃনামে মুখর নলাটেশ্বরী মন্দির।