"আমি সতেরও মা অসতেরও মা", সারদামণি থেকে মা সারদা হয়ে ওঠার কাহিনী

"আমি সতেরও মা অসতেরও মা", সারদামণি থেকে মা সারদা হয়ে ওঠার কাহিনী

আজবাংলা       সারদামণি থেকে মা সরাদা এ এক দীর্ঘ চলার পথ ৷ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ এক মেয়ে থেকে আজকের সবার মা ৷ আমাদের মা ৷ অবতারবরিষ্ঠ ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সঙ্গে শুভ বিবাহ সুসম্পন্ন হয়েছিল সারদামণি ৷ সাংসারিক চেতনা বিকশিত হওয়ার আগেই মা সারদা সংসারে জোয়ারে গা ভাসিয়েছিলেন ৷ তিনি মা সারদা, শুধুই মা সারদা ছিলেন না ৷ এক মহীয়সী নারী, সবার মা ৷ ভক্তেরা মনে করেন আজও ৷ মা সারদাই আসলে মা দুর্গা, কালী, অন্নপূর্ণা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, জগদ্ধাত্রী ৷ 

মা দুর্গা যেমন দশভুজা ছিলেন অর্থাৎ সমাজের দশদিক সমান ভাবে একা হাতে সামলাতেন ৷ তেমনই সংসার, ঈশ্বরের সেবা ও মায়ের অগণিত ছেলেমেয়েদের জন্য দিনরাত মা প্রাণপাত করতেন ৷ তিনি ছিলেন স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা ৷ মা সারদা স্বয়ং মা লক্ষ্মী, মায়ের কৃপা যে যে সংসারে আছে সেই সংসার কখনই লক্ষ্মীছাড়া হয়না ৷ জগদ্ধাত্রী অর্থাৎ যিনি সমগ্র জগৎকে ধারণ করে আছেন ও থাকেন ৷ সেই কারণেই তিনি জননী জগদ্ধাত্রী ৷ মা সারদাও সাক্ষাৎ মা জগদ্ধাত্রীর অন্যরূপ |

মায়ের জন্ম ও পরিবার: 

১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর (বাংলা ১২৬০ সনের ৮ পৌষ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটীর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা মায়ের জন্ম হয়। তার পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী। সারদা মা ছিলেন তাদের জ্যেষ্ঠা কন্যা। জন্মের পর প্রথমে সারদা মায়ের নাম রাখা হয়েছিল "ক্ষেমঙ্করী"। "ক্ষেমঙ্করী" নামটি পালটে "সারদামণি" রাখা হয়।

বিবাহ: 

১৮৫৯ সালের মে মাসে, মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই রামকৃষ্ণ পরমহংসের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের বয়স তখন তেইশ। বিবাহের পরেও সারদা দেবী তার পিতামাতার তত্ত্বাবধানেই রইলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ফিরে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে। এরপর চোদ্দো বছর বয়সে প্রথম সারদা দেবী স্বামী সন্দর্শনে কামারপুকুরে আসেন। এই সময় তিনি যে তিন মাস শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে বাস করেছিলেন, তখনই ধ্যান ও অধ্যাত্ম জীবনের প্রয়োজনীয় নির্দেশ তিনি পান তার স্বামীর থেকে | 

মায়ের চলা পথ: 

শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট জীবন সারদা দেবী অতিবাহিত করেন জয়রামবাটি ও কলকাতার উদ্বোধন ভবনে। শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যগণ তাকে আপন জননীর আসনে বসাতেন। গুরুর প্রয়াণের পর উপদেশ ও উৎসাহলাভের আশায় ছুটে আসতেন তার কাছে |পরবর্তীকালে ভক্তদের নিকট মহাশক্তির অবতার রূপে পূজিত হতেন।

মায়ের শেষ দিনগুলি: 

১৯১৯ সালের জানুয়ারি মাসে শ্রীমা জয়রামবাটী যাত্রা করেন এবং সেখানেই এক বছর কাটান। জয়রামবাটীতে অবস্থানের শেষ তিন মাস তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। ১৯২০ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি অশক্ত অবস্থায় তাকে কলকাতায় আনা হয়। ১৯২০ সালের ২০ জুলাই রাত দেড়টায় কলকাতার উদ্বোধন ভবনে তার প্রয়াণ ঘটে। বেলুড় মঠে গঙ্গার তীরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই স্থানটিতেই বর্তমানে গড়ে উঠেছে শ্রীমা সারদা দেবীর মন্দির।