ঋষিকুল্লা নদীর তীরে কুমারীপর্বতে অবস্থিত মা তারা-তারিণীর মন্দির

ঋষিকুল্লা নদীর তীরে কুমারীপর্বতে অবস্থিত মা তারা-তারিণীর মন্দির

আজবাংলা      ভারতের নানা প্রান্তে অনেকগুলি শক্তিপীঠ রয়েছে। এই দেবীমন্দিরগুলির প্রধান আরাধ্য়া হলেন দেবী পার্বতী। পুরাণ অনুযায়ী দেবীর শরীরের নানান জায়গা ভারতের মোট ৫১টি জায়গায় পড়েছিল। সেই সব জায়গায় একটি করে পীঠ বা মন্দির গড়ে উঠেছে। সেখানে কোথাও দেবী, দুর্গা, কোথাও কালী, কোথাও চণ্ডী রূপে পূজিত হন।

সেই ভাবেই উড়িষ্যা রাজ্যের গঞ্জাম জেলার বহরমপুরের কিছু দূরে ঋষিকুল্লা নদীতীরে কুমারীপর্বতে অবস্থিত মা তারা-তারিণীর মন্দির। দেবীর ৫১পীঠের অন্যতম এক পীঠ। তন্ত্রপ্রভাবিত এই পীঠ। বলা হয় এখানে দেবীর স্তন পতিত হয়েছে। সুউচ্চ কুমারী পর্বতে মা'র মন্দির বিরাজমান। স্থানটি আজও বেশ নিরিবিলি শান্ত এবং দুর্গম। দুটি স্তনরূপীব্রহ্মশিলার একটি তারা অপরটি তারিণী বলা হয়।

ওড়িশার ব্রহ্মপুরের কুমারী পাহাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটি তন্ত্র সাধনার জন্য বিখ্যাত। এই মন্দিরে  আজও বিভিন্ন তিথিতে তন্ত্রসাধনা করা হয়,এবং তন্ত্র সাধকদের সমাগম হয়। স্থানীয় ইতিহাস দাবী করে এ মন্দির প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো। এই মন্দিরের সঠিক নির্মাণকাল জানা না গেলোও কিন্তু এই মন্দির নির্মাণ নিয়ে জনমানসে বিভিন্ন কাহানি প্রচলিত আছে | 

লোকমুখে শোনা যায়, বাসু প্রহরাজ নামে এক ব্রাহ্মণ তার দুই যমজ বোন (তারা ও তারিণী)সাথে ঋষিকূল্য নদীর তীরে বসবাস করতেন। হঠাৎ বাসু প্রহরাজের দুই বোন তারা ও তারিণী পাহাড়ে এসে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বাসু প্রহরাজ বহু প্রচেষ্টার পরও তাদের খুঁজে পান নি। সেই রাতে দুই বোন প্রহরাজের স্বপ্নাদেশ দেন যে ওই পাহাড়ে আদি শক্তির মন্দির নির্মাণ করতে ও সেখানে নিত্য উপাসনা করতে। কথিত আছে তার পর এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। 

এই কথার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করেন এই মন্দিরের নির্ম্মাণ হয় মৌর্য্য সম্রাট অশোক-এর হাতে | একটি কাহিনীর পরে মন্দির পরিদর্শনে এসেছিলেন স্বয়ং সম্রাট। জানা যায় সেই সময় তিনি নবরূপে মন্দিরটিকে আবার পুনর্নির্মাণ করেন | হিন্দু দেবদেবীর পাশাপাশি তিনি স্থাপনা করেছিলেন  বৌদ্ধমূর্তিও। 

এই মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠা ৯৯৯ টি সিঁড়ি অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারি প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা রোপওয়ের সাহায্যে অনায়াসেই যে কেউ পাহাড়ের তলদেশ হতে পাহাড়ের উপরে অধিষ্টিত মাতৃধামে পৌঁছে যায় | মন্দিরের স্থাপত্য আর মন্দিরের উপর হতে বয়ে চলা ঋষিকূল্য নদী | সুতরাং তারা তারিণী ধাম হলো মাতৃশক্তির পীঠস্থান ,তন্ত্রসাধনার আঁতুর ঘর,এখানে আছে মানুষের আস্থার গল্প |