বৃন্দাবন শক্তিপীঠ | বৃন্দাবন ৫১সতীপীঠের এক সতীপীঠ বৃন্দাবন শক্তিপীঠ

বৃন্দাবন শক্তিপীঠ | বৃন্দাবন  ৫১সতীপীঠের এক সতীপীঠ বৃন্দাবন শক্তিপীঠ

আজবাংলা         বৃন্দাবন ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মথুরা জেলার অন্তর্গত একটি শহর। ঈশ্বর পরম রাধামাধব এখানে নিজেদের সচ্চিদানন্দ ছেলেবেলার লীলা প্রকাশ করে থাকেন । বৃন্দাবন শহরে রাধা ও কৃষ্ণের অনেকগুলি মন্দির আছে। হিন্দু ধর্মের বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান। বৃন্দাবন একটি প্রাচীন শহর।

এই শহর হিন্দু ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এবং হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। আর এই শহরেই রয়েছে ৫১ সতীপীঠের একটি অন্যতম সতীপীঠ | পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর কেশগুচ্ছ পড়েছিল | মতান্তরে বলা হয় এই স্থানে সতীর আংটি পড়েছে | এখানে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন উমা বা কাত্যায়নী | 

পৌরাণিক কাহিনী থেকে যে কথা আমরা জেনে এসেছি তা হল সীতা নিজের বাবার কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সেখানেই নিজের দেহত্যাগ করেছিলেন | মায়ের দেহত্যাগের কথা মহাদেবের কানে পৌঁছনো মাত্রই মহাদেব সেখানে এসে উপস্থিত হন | সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সীতাকে কাঁধে তুলে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন |

মহাদেবের এই তান্ডপ নৃত্যয় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেবতা বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সীতার শরীর ৫১টি খন্ডে খণ্ডিত করতে শুরু করেন | মায়ের শরীর থেকে সেই দেহের খন্ডগুলোই একটিটি জায়গায় পড়ে | এরপরেই সেখানে গড়ে ওঠে সতীপীঠ | সেই ভাবেই দেশ ও দেশের বাইরে কিছু জায়গায় গড়ে উঠেছে সীতার ৫১ পীঠ | 

সেই ভাবেই পৌরাণিক মতে, বৃন্দাবনে দেবীর কেশগুচ্ছ পড়েছিল আবার কোনও মতে এখানে সীতার আংটি পড়েছিল | বৃন্দাবনে রয়েছে বিভন্ন মন্দির | সেই মতোই বৃন্দাবন কেসীঘাট হল মায়ের একটি সতীপীঠ | দেবী এখানে উমা বা কাত্যায়নী রূপে পূজিত হন | নবরাত্রির মপুজোয় ষষ্ঠদিনে এই মন্দিরে মায়ের আরাধনা করা হয় | কাত্যায়নী হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ এবং মহাশক্তির অংশবিশেষ | তিনি নবদুর্গা নামে পরিচিত দুর্গার নয়টি বিশিষ্ট রূপের মধ্যে ষষ্ঠ | নবরাত্রি উৎসবের সময় তার পূজা প্রচলিত | 

ভক্তরা বিশ্বাস করেন মা উমার পুজো করলে রোগ, কষ্ট, ভয় সমস্ত কিছু দূর হয়ে যায় | দেবী আমাকে যোগমায়া রূপেও পুজো করা হয় | মায়ের এই মন্দিরে রাখা রয়েছে একটি বড় তলোয়ার যাকে বলা হয় উচ্ছল চন্দ্রোহাস | বর্তমানে যেই মন্দিরটি বৃন্দাবনে রয়েছে সেটি ১৯২৩ সালে স্থাপন করেন যোগীরাজ স্বামী কেশবানন্দ | 

বৃন্দাবন শহরে প্রাচীনতম মন্দিরগুলির একটি হল গোবিন্দদেব মন্দির | এটি ১৫৯০ সালে নির্মিত হয় | সেই শতাব্দীরই গোড়ার দিকে বৃন্দাবন একটি শহর হিসেবে গড়ে ওঠে | বৃন্দাবনের আদি অবস্থান কোথায় ছিল, তা ১৬শ শতাব্দীর আগে মানুষ ভুলে গিয়েছিল | চৈতন্য মহাপ্রভু এই স্থান পুনরাবিষ্কার করেন। ১৫১৫ সালে কৃষ্ণের বাল্যলীলার স্থানগুলি নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবনে এসেছিলেন |

কথিত আছে, তিনি দিব্য প্রেমের আধ্যাত্মিক ভাবে আচ্ছন্ন হয়ে বিভিন্ন পবিত্র বনে পরিভ্রমণ করেছিলেন | হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, তিনি তাঁর দৈব আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে বৃন্দাবন ও তার চারপাশে যে সকল স্থানে কৃষ্ণ তাঁর বাল্যলীলা করেছিলেন বলে মনে করা হয়, সেগুলি আবিষ্কার করেন |