রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রসিদ্ধ বেলুড় মঠ

রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রসিদ্ধ বেলুড় মঠ

আজবাংলা        বেলুড় মঠ নির্মাণ করেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান বিশিষ্ট ও প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ |  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া শহরের বেলুড় অঞ্চলে হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বেলুড় মঠ কলকাতা-সন্নিহিত অঞ্চলের অন্যতম দ্রষ্টব্যস্থল | ১৮৯৭ সালে পাশ্চাত্যে বেশ কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে ফিরলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দুটি মঠের প্রবর্ত্তন করবেন | 

কথিত আছে, স্বামীজি যখন দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করছিলেন, তখন সেই সব দেশের বা অঞ্চলের সমস্ত স্থাপত্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এই রামকৃষ্ণ মিশন নির্মান করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি |  ১৯৩৫ সালের ১৬ মার্চ বেলুড় মঠের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মান হয় | 

বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মন্দির রামকৃষ্ণ ভাব-আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র | এই মন্দিরটি হিন্দু, ইসলামী, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান স্থাপত্যের মিশ্রণে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন | ৪০ একর জমির উপর অবস্থিত মূল মঠপ্রাঙ্গনে রামকৃষ্ণ পরমহংস, সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দের দেহাবশেষের উপর অবস্থিত মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনের সদর কার্যালয় | 

বেলুড় মঠের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা, সিক্ষা, নারীকল্যান, শ্রমিক ও অনগ্রসর শ্রেনীর স্বার্থে গ্রামোন্নয়ন, ত্রাণ,ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে | দুর্গাপুজো, কুমারী পূজা এখানকার অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান | এছাড়া রামকৃষ্ণ পরমহংস, মা সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি ও প্রয়াণতিথিও পালন করা হয় | 

স্বামী বিবেকানন্দের পরিকল্পনা অনুযায়ী তার সন্ন্যাসী-ভ্রাতা ও রামকৃষ্ণ পরমহংসের অপর সাক্ষাতশিষ্য স্বামী বিজ্ঞানানন্দ মন্দিরের নকশা প্রস্তুত করেন | বিজ্ঞানানন্দ পূর্বাশ্রমে ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার | ১৬ মার্চ, ১৯৩৫ মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় | প্রখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার ও শিল্পপতি স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে মার্টিন বার্ন অ্যান্ড কোম্পানি এই বিরাট মন্দিরটি নির্মাণ করেন | রামকৃষ্ণ মিশন এই মন্দিরের বর্ণনা দেন “স্থাপত্যের ঐকতান” রূপে | 

বেলুড় মঠের অভ্যন্তরে দ্রষ্টব্য স্থানগুলি হল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির, পুরনো ঠাকুরঘর, স্বামী বিবেকানন্দের বাসকক্ষ, স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির, শ্রীমা সারদাদেবী মন্দির, স্বামী বিবেকানন্দ মন্দির, সমাধি পীঠ, পুরনো মঠ, রামকৃষ্ণ মিউজিয়াম ইত্যাদি |

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিরাগত দর্শক ও পূণ্যার্থীদের দর্শনের নিমিত্ত মঠ ও মন্দিরের দ্বার খোলা রাখা হয় | দেশ ও বিদেশ থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন এই মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন | শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ফান্ড হিসেবে দান করেন অনেকে |