খাস কলকাতায় ভাঙছে গঙ্গার পাড়, হুঁশ নেই কারও

খাস কলকাতায় ভাঙছে গঙ্গার পাড়, হুঁশ নেই কারও

আজ বাংলা নদীয়া,মালদা,মুর্শিদাবাদ নয়,খোদ মহানগরের বুকে ভাঙছে পাড়। কুমারটুলি ঘাট থেকে নিমতলা ঘাট হয়ে জগন্নাথ ঘাট- ক্রমশ পাড় ভাঙছে গঙ্গা।  ধীরে ধীরে গঙ্গার গ্রাসে চলে যাচ্ছে পাড়ের মাটি, ।

 এমনকি ভাঙতে শুরু করেছে ঘাটের সিঁড়ি। এই অবস্থায় ভাঙন আটকাতে অবিলম্বে নদীর পাড় বাঁধানো জরুরি।

হুগলি নদীর পাড় সংলগ্ন এই সব এলাকা কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের আওতাভুক্ত। শহরের মানুষের বিপদ আঁচ করে কলকাতা পুরসভা এগিয়ে এলেও বাধ সেধেছে জমি, জলের মালিকানা।

 কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, "আমরা তো কাজ করতে চাইছি। পুরসভাকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা সমস্যার কথা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি তারা কোনও সু'ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত ৫-৬ বছর ধরে গঙ্গা ক্রমশ এগিয়ে আসছে পাড়ের দিকে। গঙ্গার পাড় বরাবর মায়ের ঘাট, কুমারটুলি ঘাট, নিমতলা ঘাট, জগন্নাথ ঘাট প্রভৃতি একাধিক ছোট ছোট ঘাট কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তার উপরেই ছিল ।

মোদি ঘাট, আদ্যশ্রাদ্ধ ঘাট, প্রসন্নকুমার ঠাকুর ঘাট কাঠগোলা ঘাট আজ আর নেই। বহুক্ষেত্রে দেখা গেছে সেই ঘাট জবর দখল হয়ে গিয়েছে। ফলে আদৌ সেই ঘাটের অস্তিত্ব কোথায় তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। যে ঘাটগুলি এখনও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার বেশিরভাগই ভাঙাচোরা। কোনও কোনও অংশ ভেঙে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছে।

ঢেউয়ের ধাক্কায় প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে পাড়।  নিমতলার কাছে বহু জায়গায় গঙ্গার পাড় বালির বস্তা, পাথর দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল। যদিও সেই অংশ ভাঙতে ভাঙতে নদীতে মিলিয়ে গিয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বহুবার বলেও কোনও লাভ হয়নি।তারা বলেন বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, কাশী মিত্র ঘাট, আহিরীটোলা, নিমতলা, বাগবাজার ঘাট সহ কলকাতার একাধিক জায়গায় গঙ্গার পাড় বাঁধাই করে সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। সুদৃশ্য আলো, মনোরম গাছের বাহার, বসার জায়গা, সব মিলিয়ে কলকাতায় গঙ্গার পাড় এখন বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

কিন্তু কুমারটুলি ঘাট থেকে নিমতলা ঘাট হয়ে জগন্নাথ ঘাট, এই অংশে কোনও নজর পড়েনি। প্রতিদিন গঙ্গা স্নান করতে আসা মহিলার দাবি, "উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন অংশে গঙ্গার ঘাটগুলির কোনও উন্নয়ন হয়নি।

কুমারটুলি ঘাটের দু'টি অংশ ভেঙে পড়ে আছে। জোয়ারের জল বুঝতে না পেরে স্নান করতে নেমে বা জল ভরতে নেমে অনেকেই বিপদে পড়ছেন। অভ্যাস ছাড়তে পারি না। তাই স্নান করতে আসি। কিন্তু বিপদ থেকেই যায়।" তাঁর অভিযোগ, কিছু বললে পুরসভা পোর্ট ট্রাস্টের দোহাই দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্য ঘাটগুলির যদি সংস্কার হতে পারে, তাহলে কেন এখানে নয়? বছরের পর বছর কেটে গেলেও উন্নয়ন হচ্ছে না এখানে।