সন্তানের সমৃদ্ধির কামনায় করম উৎসবে মেতে উঠল পুরুলিয়ার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

Kuruli community of Purulia started to celebrate Karam festival
সন্তানের সমৃদ্ধির কামনায় করম উৎসবে মেতে উঠল পুরুলিয়ার কুড়মি সম্প্রদায়

শান্তনু দাস,আজবাংলা পুরুলিয়াঃ সাঁওতাল গোষ্ঠীর মাহাত সম্প্রদায়ের আরাধ্য দেবতা করম ঠাকুর৷গাছের নরম ডালকে নিরাকার করম ঠাকুর মেনে পুজো করাই তাদের রীতি।সন্তানের সমৃদ্ধির কামনায় এই উৎসবে সারাদিন উপবাস থেকে ব্রত রাখেন মহিলারা।সন্ধ্যায় পুজো হয়।যাঁরা রীতি মেনে পুজো করেন তাঁদেরকে গ্রামের লোকেরা পার্বতী নামে ডাকে।প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর সাজিতে ফুল-বেলপাতা নিয়ে গোল হয়ে বসে করম ঠাকুরের কাহিনী শোনেন গ্রামের সবাই। পুজো শেষে ধামসা মাদল বাজিয়ে হয় নাচ-গান।সব মিলিয়ে এই পুজো দিয়েই প্রতি বছরের মতো এবছরও করম উৎসবের মরশুমে মেতে উঠল পুরুলিয়া জেলার ভূমিজ, কুর্মী, বীরহড়,বীরনিয়া, খেরওয়ার, হো, খেড়িয়া, শবর, কোড়া,লোহার, মাহালি, রাজপুত, সিংসরদার, সিংমুড়া, পাহাড়িয়া, মাহাতো, বাউরী, হাড়ি, বাগদি, বেদে, সরাক, ঘাসি, মাহালি ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও সহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।মেতে উঠলেন পুরুলিয়া জেলার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের কোটশিলা কুর্নীমহল গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরাও। এই ধরনের আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পাতায় লাইক করুন

 

 

করম উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা ৫ দিনের।কোথাও কোথাও ৭ দিন যাবত এই অনুষ্ঠান করা হয়।প্রথম দিন থেকেই কেরমেতিদের আমিষ হলুদ, তেল ও সকল প্রকার মসলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হয়। কেরমেতি বলতে যারা করম পুঁজায় অংশ গ্রহণ করে তাদের বোঝায়। তারা বিশ্বাস করে যদি এই খাবার পদ্ধতির কেউ অনিয়ম করে তাহলে ওরা অংশের জাঁওয়া মরে যায়। জাঁওয়া বলতে বোঝায় মাটি, বালি, মুং, কুর্থি, ছোলা ইত্যাদি উপকরণ সামগ্রীর সমন্বয়ে চারা গাছের যে ডালা তৈরি করা হয়।এটি আসলে অর্থে বৃক্ষের অঙ্কুরোদগমকেই বোঝায়। এই করম উৎসবে সারা রাত ধরে সুর্যদয়ের পর্যন্ত সম্মিলিত ভাবে ভাদরিয়া ঝুমুর গান ও যৌথ নাচ পরিবেশিত হয়। এই নাচে শুধুমাত্র অবিবাহিত ও প্রথম বছরের নববিবাহিতা মেয়েরাই অংশ গ্রহণ করে থাকেন। নৃত্যশিল্পীরা অর্ধবৃত্তাকারে হাত ধরাধরি করে এক পা এগিয়ে পিছিয়ে জাওয়া ডালিগুলিকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করেন।একজন উচ্চস্বরে গান শুরু করার পরে নৃত্যশিল্পীরা গান শুরু করে ধীরে ধীরে গানের সুর নামিয়ে আনেন।একই কথা বারে বারে গাওয়া হয়।মেয়েদের পড়নে লুঙ্গি,গামছা কিংবা শাড়ি,রূপার গহনা ও মাথায় ফুল।করম নাচে তাঁদের গৃহকাজ কৃষিকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়।