বলিভিয়ায় বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস দেশ ছেড়ে আশ্রয় নিল মেক্সিকোয়

আজবাংলা সম্প্রতি বিক্ষোভের মুখে পরে ৬০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস পদত্যাগে বাধ্য হন। প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা ইভো মোরালেস লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রেসিডেন্টের পদে থাকা নেতা। কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকায় বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট মোরালেস গত মাসে তাঁর বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন। ২০ অক্টোবরের নির্বাচনে ‘সুস্পষ্ট কারচুপি’র প্রমাণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা রবিবার নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার আহ্বান জানায়।নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বলিভিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেসা এই বিতর্কিত নির্বাচনের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এর জেরে বলিভিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।পদত্যাগের পর প্রাণ বাঁচাতে মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বলিভিয়ার সদ্য পদত্যাগ করা প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস।মোরালেসকে বহনকারী মেক্সিকোর বিমানবাহিনীর একটি বিমান মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে মোরালেস এ কথা বলেন ।মেক্সিকোতে বামপন্থি সরকার ক্ষমতাসীন এবং তারা বলিভিয়ার ঘটনায় মোরালেসের প্রতি সমর্থন জানায়। মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড বলেন, মোরালেসের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিল। মেক্সিকো তাঁকে আশ্রয় দিয়ে নির্বাসিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখল। প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বামপন্থী নীতি বলিভিয়ার মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। নীতিগত দিক থেকে মোরালেসকে অনেকেই উগ্রবাদী মনে করতেন। তাঁর পরাজয়ের অন্যতম একটি কারণ প্রতিবেশী চিলির সঙ্গে বিরোধের জেরে বলিভিয়ার সমুদ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। বলিভিয়ার নাগরিকদের কাছে সমুদ্র জাতীয় গর্বের বিষয়। চিলির সঙ্গে যুদ্ধের পর ১৮৮৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার হারিয়ে ফেলে দেশটি। তখন থেকেই এই অধিকার আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মোরালেসের দাবি, তিনি ‘অভ্যুত্থানের’ শিকার এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একসময় জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া মোরালেস এখন দেশছাড়া।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোরালেস দাবি করেন, ‘ক্যু ষড়যন্ত্রকারীরা বলিভিয়ার গণতন্ত্রকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। তবে ইভো মোরালেস সরে দাঁড়ানোর পরও বলিভিয়ার অস্থিতিশীলতায় কোনো উন্নতি ঘটেনি। সোমবারও সেখানে দোকানপাটে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। মেক্সিকোতে পৌঁছে মোরালেস বলেছেন, ‘বেঁচে যখন আছি, তখন রাজনীতিতে থাকব। এই বিশ্বের সব মানুষের নিজেদের বৈষম্য ও অসম্মান থেকে মুক্ত করার অধিকার রয়েছে।’