চলুন ঘুরে আসি পশ্চিমবঙ্গের নতুন জেলা আজকের ঝাড়গ্রাম।

আজবাংলা হাওড়া স্টেশন থেকে ইস্পাত" এক্সপ্রেসে করে- এককালের “ঝাড়িখন্ড” যা আজকের ঝাড়গ্রামে। আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে ট্রেন থামল ঝাড়গ্রামে স্টেশনে। স্টেশন থেকে পৌঁছালাম 'প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রে'...। আশেপাশের বড় বড় গাছে ঘেরা, জঙ্গলের পরিবেশে ছোট ছোট কয়েকটা কর্টেজ। চেক ইন করলাম কর্টেজ । ফ্রেস হয়ে একটা টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে জামবনি - চিল্কীগড় অভিমুখে ।

অনেকটা রাস্তা পেরোতে হল, পুরো রাস্তার দুপাশে জুড়ে রয়েছে গ্রাম্য পরিবেশে, মাঠ, ধানের জমি, একতালা -দোতলা মাটির বাড়ি। বাড়িগুলির গায়ে রঙিন কারুকার্য আঁকা। প্রথমেই চিল্কীগড় মূল রাজবাড়ী এবং রাজবাড়ীর অধীন কয়েকটি মন্দির দেখলাম। রাজবাড়ি যত্নের অভাবে জীর্ণ। খানিকটা এগিয়ে এরপর আমরা বহু পুরাতন কনক দুর্গার মন্দির গেলাম। রাস্তায় পড়লো ডুলুং নদী, স্থানীয় ছোট ছোট বাচ্চারা স্নান করছে নদীর জলে। খানিকটা সময় কাটিয়ে এরপর আমরা ঝাড়গ্রাম শহরে দিকে ফিরছিলাম, পথে জামবনি তে একটা ছোট হোটেলে লাঞ্চ সেরে নিলাম। ঝাড়গ্রাম শহরে ফিরে রেললাইন পেরিয়ে, পৌঁছালাম মিনি চিড়িয়াখানায়। সেখানে বিভিন্ন রকমের পাখি, কচ্ছপ, ঈগল, হনুমান, টিয়া, হায়না, মেছো বিড়াল, ময়ূর-ময়ূরী, ভাল্লুক, অজগর, কয়েকটা বিষাক্ত সাপ, চিতাবাঘ দেখলাম। ঘন্টা তিনেক চিড়িয়াখানায় কাটিয়ে ঢুকলাম পাশের ডিয়ার পার্কে।

মিনিট পনেরো ওখানে কাটিয়ে টোটো নিয়ে আমরা পৌঁছালাম ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী। একমাত্র রথের দিনেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী সর্বসাধারনের জন্যে খোলা থাকে, নয়তো অনুমতির প্রয়োজন হয়। পড়ন্ত বিকেলের রাজবাড়ী দেখে মন ভোরে গেল। রাজবাড়ীর সামনে বড় পরিসর, সামনের সাজানো বাগান, ঝর্ণাসহ অনেক কিছু চোখে পড়ল। কিছু দির এগিয়ে দুটি মন্দির দেখলাম, রাজবাড়ীর মন্দির ওগুলো। সন্ধে নেমে এসেছে, আর দেরি না করে আমরা কর্টেজে ফিরে এলাম। খানিক বিশ্রাম নিয়ে কর্টেজগুলির কমন ডাইনিংয়ে ডিনার হল- ডাল, ফ্রেন্চ ফ্রাই, মাছের কালিয়া, চাটনী আর বুনো পটোলের তরকারি, আহা কি স্বাদ পটলের, তৃপ্তি করে খেলাম ! ডিনার সেরে খানিকটা গল্প করে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম।পরদিন সকালে উঠে কর্টেজের পেছনের ব‍্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জঙ্গলে থাকার আমেজটা উপভোগ করে, স্নান সেরে লাগেজ গুছিয়ে নিলাম। ব্রেকফাস্টে- বাটার টোস্ট, ডিম, কলা, রসগোল্লা আর চা। একটা চারচাকার গাড়ি বুক করলাম, গাড়ি নিয়ে আমরা ঝাড়গ্রাম ছেড়ে চললাম বেলপাহাড়ির দিকে। বেলপাহাড়ি পৌঁছে রাস্তার পাশে গুমটিতে চা খেলাম।

এরপর আমাদের গাড়ি সরু রাস্তা ধরে এগোতে থাকলো জঙ্গল এর দিকে । কিছুদূর গিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম খন্দরানী ড্যাম ও লেকে। সত্যি, নিজের চোখে না দেখলে ওই দৃশ্য পুরোটা অনুভব করা যায় না...কি সুন্দর বিশাল স্বচ্ছ জলের লেকটাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সবুজে ঢাকা পাহাড়। বহু বিদেশী ছবিতে এরকম দেখেছি আমরা, ঘরের এতো কাছেই সেরকমই এত সুন্দর একটা জায়গা রয়েছে, ভেবে খুব অবাক লাগছিলো । খানিকটা সময় দাড়িয়ে, সেখান থেকে গেলাম মহর্ষি সত্যানন্দ আশ্রমে, পুরো মাটির তৈরি আশ্রমের ঘর গুলো, সে এক অন্য অনুভূতি। আশ্রমের ফল প্রসাদ খেয়ে আমরা চলে এলাম ঘাঘরা জলপ্রপাত এ। সময় খুব কম, ছোট ট্রিপ তো...তাই ফেরার পালা এবার।অনেকটা লম্বা রাস্তা অতিক্রম করে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছালাম।স্টেশনের পাশে হোটেলে ভাত-দেশি মুরগির ঝোল দিয়ে খাওয়া সারলাম । এবার ডাউন ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরার পালা। ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়া স্টেশন হয়ে ঘরে।