কালীঘাটে মদের দোকানের সামনে লাইন সরাতে পুলিশের লাঠিচার্জ

আজবাংলা    গত ২৫ মার্চ দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে অন্য বহু দোকানের মতো মদের দোকানও বন্ধ ছিল।সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় কালীঘাট ফায়ার ব্রিগেডের পাশে মদের দোকানটি খুলতেই ভিড় উপচে পড়ে। দোকান খোলার আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকে। দোকান খোলার পর সেই লাইন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলি হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের মুখ পর্যন্ত চলে যায়। ক্রমশ আরও বাড়তে থাকে ভিড়।দফারফা হল সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের বিধি। ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার হালকা লাঠিও চালাতে হয়েছে পুলিশকে। লাইনে থাকা সকলের মুখেই মাস্ক দেখা গেলেও সামাজিক দূরত্বের কোনও চিহ্ন ছিল না। এরপর পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়তে গিয়ে সরু গলির মধ্যে কারও কারও পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়।মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি হওয়ায় ওই এলাকায় বছরভর জারি থাকে ১৪৪ ধারা। ভিড় জমায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হওয়ায় হালকা লাঠি চালিয়ে জমায়েত সরিয়ে দেয় পুলিশ। রাজ্য সরকারের কাছে মদের দোকান খোলা কার্যত বাধ্যতামূলক, কেননা আবগারি শুল্ক রাজ্যের আয়ের একটি প্রধান উৎস। গত বছর রাজ্য সরকার আবগারি শুল্ক হিসেবে ১১৬২৬.৯৯ কোটি টাকা আয় করেছিল। এবার অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে মনে করা হচ্ছিল আয় হতে পারে ১২৭৩১ কোটি টাকা।সূত্রানুসারে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকা বেশি রোজগারও এবার হতে পারে আবগারি শুল্ক বাবদ। কেননা প্রতিটি মদের বোতলে ৩০ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করছে বলে জানা যাচ্ছে। লকডাউনের তৃতীয় ভাগে কনটেনমেন্ট জোন নয় এমন এলাকায় মদের দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য অবশ্য মানতে হবে একগুচ্ছ শর্ত। এর মধ্যে মদ কিনতে গেলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। তাছাড়া দোকানের সামনে ক্রেতাদের ৬ ফুট দূরত্বে দাঁড়াতে হবে। ৫ জনের বেশি লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনে টোকেনের ব্যবস্থা করতে হবে। দোকানের সামনে নতুন মূল্যতালিকা ঝোলাতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু সোমবার সকালে মাস্ক ছাড়া অন্য কোনও বিধির বালাই দেখা যায়নি কলকাতা শহরে।