‘মা আসবেই’,সন্তানেরা কোমর বেঁধেছে

‘মা আসবেই’,সন্তানেরা কোমর বেঁধেছে

আজ বাংলা  প্রথা মত মহালয়ার ৫দিন পর দূর্গাষষ্ঠী হয়ে থাকে।কিন্তু এবার আশ্বিন মাস মল মাস হওয়ায়,পুজো হবে ১মাস পরে অর্থাৎ কার্ত্তিক মাসে।এ বছর যেন সবকিছুই আলাদা।অন্যান্য বাড়ের মতন কোথাও কোন জৌলুস নেই।

পুজোর সঙ্গে জড়িত সব মানুষগুলোর জীবনে আচমকাই নেমেছে অন্ধকার। এই যেমন প্রতি বছর পুজোয় পাড়ার মঞ্চ বাঁধার ডাক পড়ত পাড়ারই ছেলেদের ।

 প্রতি সন্ধের মাইকের দায়িত্বে থাকত একজন করে। এবার এদের দেখা নেই কারণ সমস্ত পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ। যে সব শিল্পীদের কাছে পুজো বলতেই এ-পাড়া, ও-পাড়া কিংবা দেশ-বিদেশের অনুষ্ঠান, গালে হাত তাঁদেরও।

কারণ একটাও বুকিং আসেনি। পুজোর মরশুমে মাথায় হাত পড়েছে অনেকেরই। অনেক পাড়ায় তো ক্লাবের তরফে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে কেবল নিয়ম রক্ষার্থে পুজো হবে।

এত বিষন্নতার মাঝে মা আসছেন,সেই ইশারাই দিচ্ছে মাঠে-ঘাঠের কাশফুল, কচুরিপানার পদ্ম।হাতে আর কয়েকটা দিন মাত্র।এই সময়ে দাঁরিয়ে, স্যানিটাইজার-মাস্ক আর সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের বিধি মেনে এক অনন্য আয়োজন করেছে ‘ক্যালকাটা ব্রডওয়ে’।

জানা গেছে, শিল্পী জগতের তরুণ-তুর্কিদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে ভাগ নেবেন কলকাতার  প্রবাদপ্রতিম শিল্পীরাও। টিকিট কেটে বাড়ি বসেই দেখা যাবে সব শিল্পীদের দুরন্ত পারফরম্যান্স।

টিকিট বিক্রির সমস্ত টাকটাই তুলে দেওয়া হবে সেইসব মানুষের হাতে যাঁরা সারা বছর যুক্ত থাকেন এই শিল্পীদের সঙ্গেই। যেমন যিনি মঞ্চসজ্জায় থাকেন, বা লাইটম্যান কিংবা ব্যাকস্টেজে কাজ করেন যে কর্মী বা শিল্পীদের সহযোগী এবং নতুন বা ইয়ং জেনারেশনের যেসব আর্টিস্ট এই করোনা কালে সমস্যায় জর্জরিত তাঁদের সকলের মুখেই হাসি ফোটানোর প্রয়াস ‘মা আসবেই’।

 আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে এই অনুষ্ঠান। মিউজিয়ানা মাইলসের ওয়েবসাইটে টিকিট কাটা যাবে।

সেখানেই দেখা যাবে অনুষ্ঠান। ইমন চক্রবর্তী, গোকুল চন্দ্র দাস, কৌশিকী চক্রবর্তী, সাগ্নিক সেন, তন্ময় বসু, শর্মিলা বিশ্বাস, নীলয় সেনগুপ্ত, নান্দীকারের এক দল তরুণ তুর্কি এবং শৌনক চট্টোপাধ্যায়, সাম্য কার্ফা ও আরও অনেকেই রয়েছেন এই অনুষ্ঠানে।

সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন প্রত্যূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রদ্যোত চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন শৌর্য দেব এবং মূল গল্পটির ভাবনা শৌনক ও সাম্যর ।

বাচিক শিল্পী সাম্য বলছেন, “বহু দিন পর ঘর থেকে বেরিয়ে আবার স্টুডিওয় দাঁড়িয়ে কাজ করছি। আবার সকলে মিলে তৈরি করছি এক একটা গান। একটা কবিতা। প্রায় ৬ মাস পর, ভাবা যায়! আর এই সবকিছুর জন্য ক্যালকাটা ব্রডওয়েকে বিশেষ ধন্যবাদ”।

ইমন জানান, “আমি একটি পুরাতনী গান গাইছি। সাধারণত যে ভাবে আলাদা করে ট্র্যাক তৈরি করে তারপর রেকর্ড করা হয় এ ক্ষেত্রে সে ভাবে এই গানটি তৈরি করা হয়নি। আমরা লাইভ রেকর্ড করেছি। ”

তবে স্টুডিওর ফ্লোরেও সংক্রমণ ছড়ানোর একটা চাপা দুশ্চিন্তা তো রয়েছেই সকলের মধ্যেই। সেই ভয়কে জয় করেই এগিয়ে এসেছেন শিল্পীরা। গান-নাটক-নাচ-কবিতা অর্থাৎ বিভিন্ন আর্ট ফর্মে নিপুণ ভাবে বোনা হয়েছে একটা সুন্দর গল্প।

যেটা দর্শকদের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই হাসি ফোটাবে শিল্পীদের সহযোগীদের মুখেও। দীর্ঘদিন পর এমন অনুষ্ঠান নিয়ে উৎসাহী সকলেই। এমন সংকটের দিনে দেবী দুর্গা দশভুজা রূপে কীভাবে মর্ত্যবাসীকে আগলে রাখবেন, কীভাবেই বা হবে উমার বোধন এই সবকিছু নিয়েই একটা নতুন গল্প শুনতে পাবেন, দেখতে পাবেন দর্শকরা। সাক্ষী হবেন এক অনন্য মুহূর্তের।