জানেন কি, মা কালি কত রুপে পূজিত হন

জানেন কি, মা কালি কত রুপে পূজিত হন

আজ বাংলা   কালীর কালো রংয়ের কাছে অনেক ভক্তরাই নিজেদের প্রাণ সঁপে দিয়ে গেয়ে উঠেছেন ‘কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন’। মা কালী হলেন রহস্যের প্রতীক। নানা কারণে কালীর এক একটি রূপ পূজিত হয়।

দেবী কালির নাম ও রূপ একটা অদ্ভুত ভয় মেশানো ভক্তির ভাব আনে আমাদের অন্তরে। দেবীর কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে টানটান হয়ে শুয়ে থাকা মহাদেবের বুকের ওপরে দাঁড়ানো

বিবসনা এলোকেশী ও মুণ্ডমালিনী কালো বা শ্যামবর্ণের নারীমূর্তি। দেবীর চার হাত। এক হাতে খড়্গ, এক হাতে রক্তঝরা মানুষের মাথা, অন্য দু’হাতের একটি অভয় দান ও অপরটি বরদানের।

দেবীর কোমরের চারপাশে কাটা হাতের মালা। দেবীদেহ নানান অলংকারে সুসজ্জিত। হাসি মাখা মুখমণ্ডল।

‘শক্তির রূপ ভারতে ও মধ্য এশিয়ায়’ গ্রন্থে দেবী কালিকা প্রসঙ্গে ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন – ‘কাল’ কথাটির এক অর্থ ‘সময়’ সেই অর্থে কালী সময়ের দেবী।

কালের শক্তির ধ্বংসলীলার মধ্যে আছে সৃষ্টি বীজ। তিনি অশুভনাশিনী ও মঙ্গলময়ী। কালের বাঁ সময়ের মধ্যে ধ্বংস ও সৃষ্টির যে খেলা চলছে তা তিনি পরিমাপ করতে পারেন, তাই কালের দেবী কালী কালোত্তীর্ণ , সনাতনী। বিভিন্ন পুরাণ ও তন্ত্রে দেবী কালিকার গুণ ও কর্মভেদে দেবীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা করা হয়েছে।

চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অত্যাচারী অসুর ছিল। চণ্ড শব্দের অর্থ অত্যন্ত ক্রোধী, মুণ্ড শব্দের অর্থ যার মস্তক মুণ্ডিত। অশুভ শক্তিরূপ এই অসুরদ্বয় শক্তির দম্ভে ছিল পরিপূর্ণ। দেবীর মহাকালী রূপ চণ্ড ও মুণ্ডকে নিধন করেন। তাই দেবীর আর এক নাম হয় চামুণ্ডা।

নানানরূপী কালীর হাজার এক নাম। দেবী কালিকা মহামারী, অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি যে কোনও সামাজিক বিপর্যয়ে যখন পূজিত হন তখন তিনি রক্ষাকালী।

মধু ও কৈটভ অসুরদ্বয়কে বিনাশের জন্য প্রেরিত ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রাজাত দেবী কালিকা ত্রিনয়নী, সর্বালংকারে ভূষিতা, সর্ব অস্ত্রে আবৃতা। মোহরূপ বর্ত ও মমতারূপ আবর্ত থেকে মুক্তির জন্য এই মহাকালীর আবির্ভাব হয় মাঘমাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে। ইনিই রটন্তীকালী নামে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ।

 

বিশেষ কামনার জন্য সকল তিথিতে যে পুজো করা হয় তাকে বলা হয় কাম্য কালী।শ্মশানে যে কালীর পুজো হয় তাকে বলা হয় শ্মশানকালী। এই কালী পূজোর বিধি একটু অন্যরকম। এই কালী ঠাকুরকে ঘরে পুজো করা হয় না।

শ্মশানে শ্মশানে পূজিত হন এই কালী। কয়েকটি শ্মশান মিলে যে বড় বড় শ্মশান পীঠ তৈরি হয় সেখানেই পূজিত হন এই শ্মশান কালী।

গৃহে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পূজিত হন ফলহারিনী কালী। ফলহারিনী কালী বাৎসরিক একটি পুজো। নিজের অহংবোধকে রোধ করার জন্য পূজিত হন ছিন্নমস্তা কালী। তাই তিনি নিজের মাথা কেটে বাদ দিয়ে দিচ্ছেন।

এই অহংবোধকে ছিন্ন করতে পারলেই সত্যিকারের আমিকে খুঁজে পাওয়া যায়।

মৎস্যপুরাণ ও কালিকা পুরাণে দেবীর রূপ বর্ণনায় আছে, অতসীফুলের মতো গায়ের রং, কণ্ঠে নাগহার ও সোনার হার (স্বর্ণহার), ষোলোটি হাত। আটটি দক্ষিণ হাতে শোভিত শূল, খড়্গ, বাণ, চক্র, শক্তি বজ্র, দণ্ড ইত্যাদি।

আর আটটি বামহাতে শোভা পায় ঢাল, ধনু, খেটক, পাশ, মুষল, অঙ্কুশ, পয়মন্ত ও ঘণ্টা। দেবী এখানে সিংহবাহিনী। সিংহের পিঠে পা রেখে শূল দিয়ে নিধন করছেন অসুরকে। দেবী কালিকার এই রূপের নাম ভদ্রকালী।