চাষীদের জন্য ধানের জমিতে মাছ চাষের শুভ সূচনা করলেন মালদায় জেলা শাসক।

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীদের জন্য ধানের জমিতে মাছ চাষের শুভ সূচনা করলেন ডিভিশনাল কমিশনার ও জেলা শাসক। ইংরেজবাজার ব্লকের দুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর যদুপুর এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জমিতে মাছ ছাড়া হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ডিভিশনাল কমিশনার হরি রামালু, জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য, ইংরেজবাজার ব্লকের বিডিও সৌগত চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা শাসক অশোক কুমার মোদক, অর্ণব চট্টোপাধ্যায়,স্থানীয় প্রধান আইসা ইয়াসমিন, উপপ্রধান হামাল হোসেনসহ অন্যান্য আধিকারিক ও কৃষিজীবী মানুষেরা। বুধবার দুপুরে কৃষিজীবী তারিকুল ইসলামের ধানের জমিতে রুই, কাতলা এবং মৃগেল মাছের পোনা ছাড়েন জেলাশাসক ও ডিভিশনাল কমিশনার। চাত্রাবিল লাগোয়া জমিগুলি অল্প বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বছরে একবার করে ধান চাষ করতে পারেন চাষিরা। সেই কারণে রাজ্য সরকারের আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে ধানের জমিতে মাছ ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।ডিভিশনাল কমিশনার হরি রামালু বলেন, জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ধানের জমিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে এর ফলে দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা।জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য বলেন, রাজ্য সরকারের আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে ধানের জমিতে মাছ ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে সমস্ত ধানের জমিগুলিতে বেশিরভাগ সময় জল আটকে থাকে সেই জমিগুলিতে মাছের পোনা ছাড়া হয়। এর ফলে ধান চাষীরা দ্বিগুণ মুনাফা পাবেন। এর পাশাপাশি জৈব পদ্ধতিতে চাষ হবে। ধানের জমিতে মাছ চাষ হবে তা খেলে পুষ্টি পাবে শিশুরাও। কারণ সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এই মাছের চাষ করা হবে।অনুষ্ঠান শেষে এলাকার লোকেরা জেলাশাসকের সামনে কিছু দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই তাদের এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। সেখানকার জল নিকাশের দাবি তোলেন তারা। এই বিষয়ে জেলাশাসক বলেন, একটি ট্রেনেজ প্রকল্পের মাধ্যমে জল বের করা হবে। অল্প দিনের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আস্বাস দেন তিনি। ধানচাষী তারিকুল ইসলাম বলেন, এর আগে তারা জমিতে ধান চাষ করতেন। এইবার তারা রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জমিতে প্রথম মাছের চাষ করা শুরু করলেন। তিনি আশাবাদী এই চাষের ফলে তারা লাভের মুখ দেখতে পাবেন। যদুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান এই প্রকল্পকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।