বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সুব্রত চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে তোলা তোলার অভিযোগ মালদা বিদায়ী সভাপতি সঞ্জিত মিশ্রের।

আজবাংলা বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি'র মালদা জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সঞ্জিত মিশ্র। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সদ্য অপসারিত হওয়া বিজেপি জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র জানিয়ে দেন , তোলা দিতে পারি নি বলেই আমাকে ১১ মাসের মাথায় সভাপতির পদ থেকে সরানো হলো । এই ঘটনায় তোলপাড় পড়েছে বিজেপির অন্দরে। অভিযোগের তির বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।যদিও আজবাংলার প্রতিনিধি সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মোবাইলে ফোন করলে আন্য জন ফোন ধরেন। বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেও এলপিজি কেলেঙ্কারিতে
জড়িত বলে দলেরই এক প্রাক্তন নেতা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন । রঞ্জিত মজুমদার নামে এক নেতা গ্যাসের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন তিনি৷ উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে উজ্জ্বলা যোজনায় গ্যাস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিজেপি কর্মী ও সাধারণ গ্রামবাসীদের থেকে টাকা তুলেছেন তিনি।গ্রেপ্তারির আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দলের একাধির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগে সরব হয় ওই নেতা। তাঁর অভিযোগ, তিনি নির্দোষ। দলের শীর্ষ নেতারা এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। সেই নেতাদের মধ্যে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখযোগ্য । মাত্র ১১ মাসের মাথায় বিজেপির জেলা সভাপতি সরিয়ে দেওয়া নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা । উদাহরণ তুলে সঞ্জিতবাবু বলেন,  বালুরঘাটে সভাপতি তিন বছর ধরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। রাজ্যের কয়েকজন নেতাদের অঙ্গুলিহেলনে এইসব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন  সঞ্জিতবাবু।সঞ্জিত মিশ্র আরও বলেন,  সংগঠন শক্তিশালী ছিল বলেই মালদায় উপনির্বাচনে এবং লোকসভার একটি আসন পেয়েছে বিজেপি। দক্ষিণ মালদার বিজেপি প্রার্থী ঠিক থাকলে ওই আসনটিও আমরা জিততে পারতাম। শুরু থেকেই দক্ষিণ মালদার প্রার্থী সংগঠনের কথা মতোন চলে নি । তাকে মদত জুগিয়েছে রাজ্য নেতাদের একাংশ। লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে আমি বিরোধিতা করেছিলাম। সভাপতির পদ থেকে সরানো আগে পর্যন্ত কিছুই জানতাম না ।এখনও কোন চিঠি পাই নি।  সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে দুর্নীতি স্বজনপোষন এবং দীর্ঘদিন ধরে থাকার কারণে আট জন সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছি আমি । এই অভিযোগগুলো যে তোলা হয়েছে তাতেই আমি অসম্মানিত বোধ করেছি।বিদায়ী সভাপতি সঞ্জিত মিশ্রের অভিযোগ, ডাক বিভাগে ৫০ হাজার টাকা সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।  তার আগে আমি সেনাবাহিনীতেও কাজ করেছি । আসলে দলীয় নেতা সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ফরমায়েশ এবং তোলা দিতে পারি নি বলেই ১১ মাসের মাথায় আমাকে সরানো হলো ।