এনআরসি পোস্টার টাঙ্গিয়ে মঞ্চে চটুল নাচ ঘিরে মালদায় দলীয় কোন্দল

তনুজ জৈন   আজবাংলা  হরিশ্চন্দ্রপুর:     ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা সুলতান নগর এলাকায় চলছিল বিশ্বনাথ ঝা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এই খেলার মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছিল চিয়ার লিডারদের নাচের। অভিযোগ ওঠে মঞ্চের নিচেই নাকি ঝুলানো ছিল সি এ এ ও এনআরসি বিরোধী পোস্টার। সেই পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ছবি সহ এলাকার 2 দাপুটে তৃণমূল নেতার ছবিও ছিল। সেই নাচের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে। এই ভিডিওতে নিজের ওয়ালে পোস্ট করেন স্থানীয় এক ছাত্র নাম শহিদুল ইসলাম। তার বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বোর নাহি গ্রামে। সে বর্তমানে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে ছাত্র। সে তার ফেসবুক ওয়ালে এই ভিডিওটি শেয়ার করে এবং তার নিচে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সমালোচনা করে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে এন আর সি ও সি এ বিরোধী আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের তুলে ধরছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা অত্যন্ত হালকা হবে নিচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট করেন সহিদুল বাবু। এথেকেই বিতর্কে সূত্রপাত হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই পোস্ট ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। অসুবিধার সম্মুখীন হন তৃণমূল নেতৃত্বরা। এদিকে এই বিষয়ে অভিযোগের তীর ওঠে সুলতান নগর ক্ষিতিমোহন সেন ক্লাবের কর্ণধার তথা জেলা তৃণমূলের যুব সহ সভাপতি বুলবুল খানের দিকে।এই প্রসঙ্গে বুলবুল বাবু জানান এটা সম্পূর্ণ দল কে নিচে নামানোর জন্য এক জন্য অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু লোক দলকে বদনাম করতে এ ধরনের কাজ করছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে এই ক্লাবের পরিচালনায় এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়ে আসছে।রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই টুর্নামেন্টের ক্রিকেট টিম যোগদান করে থাকে। সমস্ত খেলা জুড়ে মাঠের একপাশে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। এটা কোন এনআরসি বা সি এ এ বিরোধী মঞ্চ ছিল না। ওই মঞ্চে চিয়ারলিডার দর্শকদের আনন্দ দান করছিল। প্রতিটি খেলার সমস্ত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আমরা আপলোড করেছি। খেলার মাঠের ওই ভিডিওটি তারা কম্পিউটারের মাধ্যমে এডিট করে এবং সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করে। এইভাবে তারা আমার ভাবমূর্তি ও ক্লাবের ও দলের সুনাম কে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এসব করছে। এই ঘটনার জেরে আমি মানসিকভাবে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। এই বিষয়ে আমি স্থানীয় থানায় শহিদুল ইসলাম সহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছি। আগামীতে আমার অন্য কোন ক্ষতি করে দিতে পারে এই আশঙ্কায় আমি মানসিকভাবে চিন্তায় রয়েছি বলে জানান ক্লাবের সম্পাদক তথা তৃণমূল নেতা বুলবুল খান। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর 1 নং ব্লক বিজেপির মন্ডল সভাপতি রুপেশআগারওয়ালা জানালেন সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে সমানে গোষ্ঠী কোন্দল চলছে। এই ঘটনা গোষ্ঠী কোন্দল এর ফল। বিজেপি সবসময় মানুষের পাশে আছে এবং সবসময় মানুষের পাশে থাকবে। আমরা 19 সালে যেমন তৃণমূলকে হাফ করতে পেরেছি তেমনি আগামীতে রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সাফ করে দেবো। আর কখনোই একটি খেলার মঞ্চে নিরপেক্ষতাকে দূরে সরিয়ে রেখে এন আর সি ও সি এ বিরোধী প্রচার করা যায় না বলে জানান রুপেশ বাবু। এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আলীগড় ইউনিভার্সিটির ছাত্র শহিদুল ইসলাম জানান যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখতে পেয়ে তার ওয়ালে শেয়ার করেছেন এবং তার সাথে তিনি মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে এন আর সি ও সি এ বিরোধী আন্দোলনকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন কিন্তু তার দলের কর্মীরাই এভাবে চটুল নাচের মঞ্চে এ ধরনের পোস্টার টাঙিয়ে রেখে আন্দোলনের গুরুত্ব কে কমিয়ে দিচ্ছে। তার সঙ্গে তিনি এও জানান কার নামে থানায় যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর।খেলা চলাকালীন সময়ে তিনি সেখানে কখনো উপস্থিত ছিলেন না। তিনিও জানান তার নামে যে প্রচার চলছে তিনি মিম এর সদস্য একথাটিও সর্বৈব মিথ্যা। তিনি কোন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আর কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওঠেনি এই ভিডিওটি শেয়ার করেন নি। আন্দোলনের গুরুত্ব এভাবে কম হওয়াতে তিনি এই পোস্টটি ফেসবুকে করেছিলেন। আমি একজন সাধারন ছাত্র আমি কেন কারো ভয়ের কারণ হতে যাব সে বিষয়টি আমি এখনো বুঝতে পারছিনা।এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা র আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে।