টালিগঞ্জের পর মালদায় পুলিশ ফাঁড়িতে তাণ্ডব,গুলি চালানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

রতুয়া থানা
রতুয়া থানা

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা,   পথ দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে রণক্ষেত্র চেহারা নিল রতুয়া থানার মহানন্দটোলা এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে মহানন্দটোলা পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা । ভাঙচুর করা হয় পুলিশের ছয়টি গাড়ি। পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই হামলার ঘটনায় সাত জন পুলিশ কর্মী জখম হন। তাদের স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয়।  সোমবার রাত দশটা নাগাদ এই উত্তেজনা পূর্বক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয় বলে অভিযোগ । এমনকি উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি চালায় বলেও অভিযোগ । যদিও পুলিশ গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।  তবে উত্তেজনা থামাতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে‌। মঙ্গলবার সকালে মহানন্দাটোলা এলাকায় তদন্তে যান পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সহ জেলা পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা।পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। মহানন্দাটোলা ফাঁড়িতে হামলা , পুলিশের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কুড়ি জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি  তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য,  মালদার চাচোল মহকুমার রতুয়া থানার অধীনে মহানন্দাটোলা পুলিশ ফাঁড়িটি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  সোমবার দুপুরে মহানন্দা এলাকায় একটি পিকাপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয় পরিমণ্ডল (৩৮) নামে এক পথচারীর। ওইদিন পরিমলবাবু সাইকেল করে কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন । সেই সময় নাকি ওই পিকআপ ভ্যানটি বেপরোয়া গতিতে এসে ওই সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় । পরে আহতকে নিকটবর্তী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানিয়ে দেন। এরপরই সোমবার সন্ধ্যায় ওই গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মহানন্দা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে যান মৃতের পরিবার সহ এলাকার কিছু মানুষ।অভিযোগ জানিয়ে জিডি নম্বর দাবি করেন গ্রামবাসীদের একাংশ । কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় পথ দুর্ঘটনার ব্যাপারে এফআইআর-এর মাধ্যমে মামলা করা হয়েছে। তাই জিডি নম্বর থাকে না । তাদের এফআর-এর একটি কপি দেওয়া হবে। আর এনিয়ে শুরু হয় পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে বচসা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  জিডি নম্বর নেওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশ।  তাদের অনেক বলার পরেও শোনেন নি। সন্ধ্যায় তারা চলে যায়। পরে রাতে দল বেঁধে এসে অতর্কিতে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় মৃত ব্যক্তির হয়ে আসা কিছু মানুষ।এদিকে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার খবর পেয়ে চাচোলের এসডিপিও সজল কান্তি বিশ্বাস, রতুয়া থানার ওসি, সার্কেল ইনস্পেক্টর সহ একাধিক হ দোস্ত পুলিশ কর্তারা ওই এলাকায় যান । কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ওই পুলিশকর্তাদের পরপর ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি পুলিশ ফাঁড়ি ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং শূন্যে দুই রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ।যদিও মৃতের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, চালকের গাফিলতিতে পরিমলবাবুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করা হয় নি। এমনকি আমরা জেনারেল ডায়েরি করার কথা বলে জিডি নম্বর চেয়েছিলাম। পুলিশ তা দেয় নি।  তাতেই কিছু গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। চাচোলের এসডিপিও সজল কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন,  মিথ্যা একটা অভিযোগ তুলে কিছু মানুষ মহানন্দটোলা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে । পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।  ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে । আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।