রাজ্যসভার চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজবাংলা   মার্চের প্রথম সপ্তাহেই আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী-তালিকা ঘোষণা করতে পারে তৃণমূল। এমন সম্ভাবনা ছিলই। সেই মতোই নারীদিবসের দিনই রাজ্যসভার চার প্রার্থীর নাম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যসভায় রাজ্যের পাঁচ আসন সহ দেশের ৫৫টি আসনে নির্বাচনের দিনক্ষণ আগেই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হিসেবে চারজনের নাম ঘোষণা করে চমক দিলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসেই চারজনের মধ্যে দুজন নারীর নাম রাখলেন সেই তালিকায়। রবিবারই ট্যুইট করে তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দিলেন তালিকা। তৃণমূলের চার প্রার্থী হলেন, মৌসম বেনজির নূর, অর্পিতা ঘোষ, দীনেশ ত্রিবেদী ও সুব্রত বক্সি। আগামী ২ এপ্রিল রাজ্য থেকে তৃণমূলের চার সাংসদ যোগেন চৌধুরী, কেডি সিং, আহমেদ হাসান ইমরান ও মনীশ গুপ্তর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ (অধুনা তৃণমূল শিবিরভুক্ত) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদও শেষ হচ্ছে।ফলে পাঁচনম্বর আসনে কারা প্রার্থী দেবে সেটা এখনও ঠিক করতে পারেনি সিপিএম ও কংগ্রেস।বিধানসভায় এখন বিভিন্ন দলের যে শক্তি-বিন্যাস, তাতে এই পাঁচ আসনের মধ্যে চারটিতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। বাম-কংগ্রেসের জোট হলে একটি আসনে জোটের প্রার্থী জিততে পারেন। এই আসনে কংগ্রেস নাকি সিপিএম, কারা প্রার্থী দেবে--তা এখনও স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার প্রার্থী এআইসিসি চূড়ান্ত করে। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এই বিষয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে কথা বলতে পারেন বলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রের খবর। প্রদেশ কংগ্রেস এখনও কোনও প্রার্থীর নাম পাঠায়নি। পুরনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট করছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে কোনও মতপার্থক্য হোক, কোনও পক্ষই তা চাইছে না। রাজ্যসভায় প্রার্থী হিসেবে এই চারজনের নাম ঘোষণা করে বড় চমক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায়ী সাংসদদের কাউকেই যেমন টিকিট দেওয়া হয়নি, তেমনই কোনও শিল্প সংস্কৃতি জগতের মানুষকেও রাজ্যসভায় পাঠানোর উদ্যোগী হলেন না নেত্রী। চারজনই সংসদীয় রাজনীতিতে পোড় খাওয়া ব্যক্তিত্ব। দীনেশ ত্রিবেদী ব্যারাকপুর থেকে দুবারের সাংসদ ছিলেন। এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ভাটপাড়ার প্রক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন। দিল্লির রাজনীতির আঙিনায় দীনেশ ত্রিবেদী যথেষ্ঠ পরিচিত মুখ। অর্পিতা ঘোষও বালুরঘাটের সংসদ ছিলেন, এবছরই লোকসভায় তিনি বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাস্ত হন। একইভাবে মৌসম বেনজির নূর কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মালদা-উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হন। কিন্তু তিনিও বিজেপির খগেন মুর্মুর কাছে হেরে যান। অপরদিকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হল সুব্রত বক্সি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি সুব্রতবাবু এবার লোকসভায় প্রার্থী হতে চাননি। তিনি সংগঠনেই দায়িত্ব সামলাতে চাওয়ায় এবার দক্ষিণ কলকাতা থেকে মালা রায়কে প্রার্থী করেন তৃণমূল নেত্রী। তবে রাজ্যসভায় টিকিট দিয়ে তাঁকে ফের সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনলেন তিনি।