বাংলাদেশে ধর্মীয় নেতার শেষকৃত্যে হাজির লক্ষাধিক মানুষের ঢল

million people

আজবাংলা  ঢাকা    বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদগুলোতে নামাজ পড়া এবং কবরস্থানে যেতেই বারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অবস্থায় জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি সবাইকে হতবাক করে।

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির যোবায়ের আহমেদ আনসারীর শেষকৃত্যের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঠেকাতে ব্যর্থ প্রশাসন। দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জমায়েতের ছায়া এবার মানুষ প্রত্যক্ষ করল বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার বেড়তলা জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ১৮ এপ্রিল সকাল দশটায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মাওলানা আল্লামা জুবায়ের আনসারীর জানাজায় হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়।

মানুষের ভিড় মাদ্রাসার সীমানা ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গিয়ে ঠেকে। আনসারী শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজের বাসায় মারা যান। তিনি ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হেরে যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটুকে ওই এলাকার দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আশঙ্কায় আশপাশের ৮টি গ্রামে লকডাউনের ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, লকডাউন ঘোষণা উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে অসংখ্য মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সকাল আটটা থেকে লোকজন বেড়তলা মাদ্রাসার মাঠে জড়ো হতে থাকে। পুলিশ লোকসমাগম ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!