ত্রিপুরার কদমতলায় মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে জামাই এর হাতে খুন হল শাশুড়ি

শাশুড়ি অর্চনা শর্মা (৫৫)
শাশুড়ি অর্চনা শর্মা (৫৫)

আজবাংলা ত্রিপুরা রবিবার সকাল প্রায় দশটা নাগাদ অসমের সীমান্তবর্তী উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানা এলাকায় ঘাতক জামাতার হাত থেকে মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই খুন হয়েছেন শাশুড়ি অর্চনা শর্মা (৫৫)। উত্তর জেলার সদর ধর্মনগরের ভাগ্যপুর এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত জনৈক সুখময় গোস্বামীর ছেলে মধুসূদন গোস্বামী ওরফে সমরেন্দ্রর সঙ্গে কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলা রোডের বাসিন্দা প্রয়াত স্বপন শর্মার মেয়ে রাজশ্রী শর্মার বিয়ে হয়েছিল বছর সাতেক আগে। তাদের পাঁচ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে উভয়ের মধ্যে বিগত এক বছর ধরে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) মামলা চলছে। তখন থেকে প্রায় বছর খানেক ধরে রাজশ্রী তাঁর পাঁচ বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মায়ের বাড়ি চলে আসেন। মা ছাড়া আর কেউ তাঁর বাবার বাড়িতে নেই। বছর কয়েক আগে রাজশ্রীর বাবা স্বপন শর্মা মারা যান। এর পর তাঁর স্ত্রী অর্চনা গ্রামের গৃহস্থদের বাড়ি বাড়ি কাজ করে কোনরকমে জীবনযাপন করতেন। আজ সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ মধুসূদন গোস্বামী তার শ্বশুরবাড়ি অর্থাত্‍ অর্চনাদেবীর কদমতলা বেলতলা রোডের বাড়িতে এসে স্ত্রীর সঙ্গে অযথা বচসায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এক সময় সে দা দিয়ে কুপিয়ে মারতে যায় স্ত্রী রাজশ্রীকে। রাজশ্রী পালিয়ে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। উদ্যত দা নিয়ে পিছনে ছুটে চলে মধুসূদন। ইত্যবসরে পাশের বাড়ির কাজ সেরে রাস্তা ধরে ঘরে ফিরছিলেন শাশুড়ি অর্চনা দেবী। তিনি জামাই এর এই রুদ্র রূপ দেখে হতভম্ব হয়ে যান। ছুটে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে উন্মত্ত জামাই এর রোষের মুখে পড়েন তিনি। শাশুড়িকে পদাঘাত করে রাস্তার পাশে কৃষিজমিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে সে। শাশুড়ি অর্চনার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দায়ের কোপ পড়ে। এক কোপ তাঁর গলায় পড়লে কিক্ষুক্ষণ ছটফট করতে করতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন শাশুড়ি অর্চনা শর্মা। তবে মধুসূদনের দায়ের কোপ পড়েছে স্ত্রী রাজশ্রী শর্মার ওপরও। তাঁর হাতে ও গলায় আঘাত লেগেছে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন তিনি।তবে শাশুড়ি-হত্য কারি জামাই মধুসূদন পুলিশের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করেছে।  

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!