মালদায় শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে বাম ও কংগ্রেস

মালদায় শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে বাম ও কংগ্রেস

 তনুজ জৈন  মালদা :  ২০১৭ সালের বিধ্বংসী বন্যা তে ঘর-বাড়ি হারিয়েছিল Malda মালদহের Harishchandrapur হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার দুটি ব্লকের প্রায় সব-গুলোই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য সরকারের পক্ষ সে সময়ে ক্ষতি-পূরণ হিসেবে ৩৩০০ টাকা এবং ৭০,০০০ (হাজার) টাকা অনুদান বরাদ্দ করে। কিন্তু সেই টাকা প্রকৃত বন্যায় ক্ষতি-গ্রস্তদের কাছে না পৌঁছে শাসকদলের নেতাদের মদদে নয় ছয় হয় বলে অভিযোগ।

এই নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি এবং বরই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত হয়। বেশ কয়েকজন শাসকদলের জন-প্রতিনিধি এবং নেতা গ্রেপ্তার পর্যন্ত হন। পাশাপাশি এই বন্যায় চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গুলি। এই ব্লকের ক্ষতি-গ্রস্তদের জন্য কুড়ি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।

বিরোধীদের অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের মতো এখানেও ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। ক্ষতি-গ্রস্তদের তালিকা আছে ইতিমধ্যেই ২ নম্বর ব্লকের বিডিওর কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে কোন ফলাফল মেলেনি। আরটিআই পর্যন্ত করা হয়েছে বহুবার। কিন্তু প্রশাসন এই আরটিআর জবাব দেয় নি বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব মিলিত ভাবে বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গণ-অবস্থান এবং ধর্নায় বসলেন।

বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি অবিলম্বে ২০১৭ সালের বন্যার ক্ষতি-গ্রস্তদের তালিকা না মিললে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। বিরোধীরা পাশাপাশি অভিযোগ তুলেছেন আজকের এই অবস্থানে অংশ গ্রহণ না করতে গতকাল রাত থেকেই এলাকায় শাসকদলের কর্মীরা গিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাম ও কংগ্রেস সমর্থকদের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এমনকি এই গণ-অবস্থানে অংশ গ্রহণ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে শাসক দলের নেতাদের পক্ষ থেকে।

পাশাপাশি তারা এও অভিযোগ তুলেছেন যে এই বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে কয়েক কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে এই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকে। এতে শুধু শাসক দলের নেতারা নয়, ব্লকের একাধিক সরকারি কর্মচারী জড়িত আছে বলে অভিযোগ বাম কংগ্রেস নেতৃত্বের। বৃহস্পতিবার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ বিডিও অফিসের সামনে মঞ্চ গড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দুই দলেরই জোট বেঁধে ধর্নায় বসেছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে তা লিখিত ভাবে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে বন্যা ত্রাণ বিলিকে ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।

বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস ও সিপিএমের। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে মহকুমা জুড়েই বন্যা হয়। জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতি-গ্রস্থ হয় হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক। দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক। অন্যদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশবাহিনী।

যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক বিডিও বিজয় গিরি জানান ২৯ তারিখে নোটিশ করা হয়েছে,১৮ এপ্রিলে আরটিআই এর জবাব দেওয়া হবে। হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোস্তাক আলম বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে তথ্য জানার পর বেনিয়ম হয়েছে জেনে এক আমাদেরই এক নেতা আদালতে মামলা করেন। তার জেরে তদন্ত শুরু হয়। এখন ক্যাগকে তদন্তের দয়িত্ব দিয়েছে আদালত। আমরা জানতে পেরেছি এই ব্লকের এক গ্রুপ সি কর্মীর একাউন্টেও ৫৬ লক্ষ টাকা ঢোকানো হয়েছে।

একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ হয়েছে এই ব্লকে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শেখ খলিল বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের থেকে এখানে আরও বড় দুর্নীতি হয়েছে। তথ্য জানার পরেই আমরা আদালতে যাব। কিন্তু দু বছর ধরে নিয়ম মেনে আবেদন করেও তা মেলেনি। শুধু বন্যা ত্রাণ কেন ব্লকের একাধিক প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই শাসক দলের নেতারা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন রকম মন্তব্য করতে চাননি।