তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির হলেন না সাংসদ মহুয়া মৈত্র

আজবাংলা কৃষ্ণনগর শুক্রবার কৃষ্ণনগর জেলা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের নদিয়া জেলা পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যেপাধ্যায়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও দেখা গেল না কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রকে। এ বৈঠকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু। কোনও কোনও সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময়েই কথা বলতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে রিক্তা এর জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। লোকসভা ভোট মিটে যাওয়ার পর থেকে মহুয়াকে জেলায় না পাওয়ার অভিযোগ জেলা পরিষদের সদস্য থেকে বিধায়ক সবার।প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের পরই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সভানেত্রী করা হয় মহুয়াকে। তারপর থেকে সাংগঠনিক কর্মসূচি শুরু করেন এই তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু সাংগঠনিক কাজকর্মে তাঁর পদক্ষেপ, তাঁর আচরণে কিছুটা অসন্তুষ্ট দলীয় নেতা-কর্মীরা। সূত্রের খবর, আগস্টে কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত দলের সব ব্লক সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতিকে চিঠি পাঠান তৃণমূল সাংসদ। তাতে সেপ্টেম্বর মাসে এই দুই স্তরে সাংগঠনিক বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাতে ব্লক কমিটিগুলিকে বলা হয় ১ ও ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধান, বুথ, জেলা পরিষদ ও অঞ্চল সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক সারতে হবে। একইভাবে অঞ্চল কমিটিকে বলা হয় ২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অঞ্চল কমিটির বৈঠক করতে হবে। এবং দুই বৈঠকের প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু চিঠির শেষে ইংরাজিতে ‘বাই অর্ডার’ এবং তার নিচে মহুয়া মৈত্র লেখা ছিল। এই ভাষা নিয়েই ক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা। বৈঠক শেষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও মহুয়াকে নিয়ে কার্যত অস্বস্তিতে পড়তে হয় নদিয়া জেলা পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যেপাধ্যায়কে। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে: এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন নেই  সাংসদ তথা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র। নদিয়া জেলা পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যেপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেন, মহুয়া শারীরিক কারণে জেলার বাইরে আছেন। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে আজও ওঁর কথা হয়েছে। কালও কথা হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁকে ফোন করার কথা বলাতেই কি দল মহুয়াকে আড়াল করছে? তাই কি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারলেন না? রাজীব বলেন দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি নিজেও দিয়েছেন, দলের তরফে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন।” নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ-ও তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীবকে চিঠি দিয়েছিলেন। এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠলে ফের অস্বস্তিতে পড়েন রাজীব। তিনি বলেন,  “আমি জানি না, কী করে এই চিঠি সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়েছে। কল্লোল খাঁ যদি কিছু বলেও থাকেন, তা হলে সেটা দলনেত্রীকে বলেছেন আর পর্যবেক্ষক হিসাবে আমার কাছে এসেছে। এই বিষয় নিয়ে আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলব না।” সাংসদ তথা কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে তৃণমূল যে কার্যত অস্বস্তিতে, তা ফের প্রমাণ হয়ে গেল।