শোওয়ার ঘরেই মাশরুম চাষকরে বিপুল লক্ষ্মীলাভ বৃদ্ধ দম্পতির

আজবাংলা  তেহট্ট      বর্তমানে রাজ্যে জনপ্রিয় হতে চলা খাবারের মধ্যে অন্যতম মাশরুম। মাশরুম আদতে এক ধরনের ছত্রাক। অনেকের ধারণা, মাশরুম মানেই বিষাক্ত। কিন্তু সব মাশরুম বিষাক্ত নয়। পৃথিবীতে প্রায় ৪৫ হাজার ধরনের ছত্রাক আছে। এর মধ্যে দু’হাজার রকমের ছত্রাক খাবার হিসাবে যোগ্য। এর মধ্যে ভারতে তিন ধরনের মাশরুম বিভিন্ন জলবায়ু এলাকায় চাষ হয়। সেগুলি হল পোয়াল, ধিংড়ি ও বোতাম মাশরুম। নদিয়ার তেহট্ট থানার বেতাই নতুন বাজারের ঘটনা চমকে দিয়েছে প্রায় সকলকেই। বিড়ি বাঁধার কাজ করতেন। কিন্তু বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে দৃষ্টিশক্তি। তাই অর্থ উপার্জনের অন্য পথ হিসাবে মাশরুম চাষকে বেছে নিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। জায়গার অভাবে শোওয়ার ঘরেই মাশরুম চাষ করেন তাঁরা।প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষ করেই এখন বিপুল অর্থলাভ করছেন ওই দম্পতি। এতদিন বিড়ি শ্রমিকের কাজ করেই পেট চালাতেন কৌশল্যা বৈদ্য এবং রণজিৎ বৈদ্য। ৬ মাস আগে মাশরুম চাষ শুরু করেন তাঁরা। মাশরুমের চাহিদার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেন দম্পতি। দীর্ঘদিন আগে সরকারিভাবে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও কোনওদিন মাশরুম চাষ করেননি। মাশরুম মূলত ৩৫ দিনের ফসল। চাষ শুরুর মাত্র ২৭ দিনের মাথায় তা বিক্রি শুরু হয়। দরকার সঠিক পরিচর্যার। কৌশল্যা বৈদ্য বলেন, “খুব ছোট থেকেই বিড়ি শ্রমিকের কাজ করি। বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি কমেছে। তাই বিড়ি বাঁধার কাজ থেকে অবসর নিয়ে মাশরুম চাষ করি। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় শোওয়ার ঘরের দেওয়াল বরাবর বাঁশের ফ্রেম করে ঝুলন্ত অবস্থায় ৪০ প্যাকেট মাশরুম চাষ শুরু করেছি। গড়ে প্রতিদিন ২-২.৫ কেজি মাশরুম চাষ হচ্ছে।” ওই দম্পতি আরও জানান, বর্তমানে শুকনো মাশরুমের বাজারদর কেজি প্রতি ৬০০ টাকা। ৪০টি প্যাকেট থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ কেজি করে মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে। ক্রেতারা বেশিরভাগ সময় বাড়ি থেকেই ২০০ টাকা কেজি দরে মাশরুম কিনে নিয়ে যান। ফলে লাভ হচ্ছে ভালই। কৌশল্যা বৈদ্য বলেন, “অপরিচ্ছন্নভাবে মাশরুম চাষের আশেপাশে না যাওয়াই ভাল। ঝুলন্ত ও সমতলে এই চাষ দু’রকমভাবেই করা যায়। তবে আমরা ঝুলন্তভাবে মাশরুম চাষ করি। মাশরুম লাভজনক চাষ হলেও প্রাথমিকভাবে এই কাজটি শুরু করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ, এই অঞ্চলে মাশরুমের ভাল বীজ পাওয়া যায় না। ভাল বীজ সংগ্রহ করতে না পারলে উৎপাদন খারাপ হবে। তাই আগে ভাল বীজ সংগ্রহ করা বিশেষ দরকার। বেসরকারিভাবে ব্লক প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকায় মাশরুমের গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিকভাবে প্রচার না থাকায় সচরাচর বিক্রি হচ্ছে না। সেই কারণে বৃহৎ আকারে চাষ করার ইচ্ছা থাকলেও ঝুঁকি নিতে পারছি না।” মাশরুম চাষে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তা হল পাটাতন সরাসরি সূর্যের আলো বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা। ঠিক সময়ে পরিমিত মাত্রায় স্তূপে জল প্রয়োগ। স্তূপের তলায় কোনও মতেই জল জমতে না দেওয়া। যথাসময়ে পলিথিন চাদর ঢাকা দেওয়া ও সরিয়ে নেওয়া। একটি স্তূপে ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ফলন পাওয়া যায়। বিরতির পর আবার অল্প হারে ফলন পাওয়া গেলেও কোনও অবস্থাতেই একমাসের বেশি কোনও স্তূপে রাখা উচিত নয়।