শান্তিপুর ডাকঘর নেতাজি মূর্তির পদতলে পালিত হল নদীয়া জেলা স্বাধীনতা দিবস

মলয় দে আজবাংলা শান্তিপুর আজ ১৮ আগস্ট শান্তিপুরে ডাকঘর নেতাজির মূর্তির পদতলে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপস্থিতি পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পাঠ,নৃত্য ,নেতাজির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এর মাধ্যমে পালিত হল স্বাধীনতা দিবস। তারিখটা দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন তো! ভাবছেন বুঝি ভুল হয়েছে? একেবারেই নয়, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নদীয়ার শিবনিবাস, শান্তিপুর ,রানাঘাট এর মত কিছু অংশ বাদেই ভারত স্বাধীন হয় এবং উক্ত স্থানগুলিতে পাকিস্তানের পতাকা তোলা হয়।১৫ থেকে ১৮ আগস্ট এই তিনজনের মধ্যে পন্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগর রাজ মাতা জ্যোতির্ময়ী দেবী এবং তার পুত্র সৌরিশ চন্দ্র রায়ের মত বেশকিছু গুনি জনের সক্রিয় তৎপরতায় ১৭ আগস্ট মধ্যরাতে বেতারে ঘোষিত হয় এই অঞ্চলগুলির "ভারতভুক্তি"। যথারীতি পরের দিন পূর্ণ মর্যাদা কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় এই ডাকঘর মোড়েই পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। যে পতাকাটি এখনো শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরী সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে।প্রসঙ্গত জেনে রাখা প্রয়োজন যে , ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বকালে জেলা হিসেবে নদীয়ার প্রথম আত্মপ্রকাশ। সে সময় বর্তমান হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশ এই জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট সাময়িকভাবে এই জেলার পাঁচটি মহকুমা : - কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা,কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পূর্ব পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিন দিন বাদে ১৮ আগস্ট ওই প্রথম তিনটি মহকুমা বাদে বাকি দুই মহকুমা কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট “নবদ্বীপ জেলা” নামে পুনরায় ভারত অধিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি নদীয়া জেলা তার বর্তমান রূপটি লাভ করে।কেটে যায় বেশ কিছু বছর। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে শান্তিপুরের ইতিহাস অভিজ্ঞ অমিতাভ মৈত্র এই বিশেষ দিনটি পালন করতে গেলে প্রশাসনিক বাধার মধ্যে পড়েন। তবুও তিনি একক ভাবে সকলকে ব্যাচ পড়ানোর মাধ্যমে পালন করে আসছেন। গত দু'বছর আগে থেকে সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং আন্তরিকতায় ভারত অন্তর্ভুক্তি দিবসটি র গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।