বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল নবনীতা দেব সেনের জীবনাবসান

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সাথে নবনীতা দেব সেন
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সাথে নবনীতা দেব সেন

আজবাংলা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় মারা গেলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল নবনীতা দেব সেনে।কয়েকদিন আগেই কলকাতার একটি সংবাদপত্রে তিনি ফিচার লিখেছিলেন কীভাবে ক্যান্সারের সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি লড়াই করে চলেছেন।সেই লড়াইয়ের শেষে সন্ধ্যা সাতটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

বাবা ছিলেন কবি নরেন্দ্র দেব। মা রাধারানী দেব। হিন্দুস্থান পার্কে তাঁদের ‘ভালবাসা’ বাড়িতেই ১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জন্ম হয় কবি-সাহিত্যিক নরেন্দ্র দেব আর সেকালের নারী সাহিত্যিক হিসাবে রীতিমতো বিপ্লব ফেলে দেওয়া রাধারানী দেবের মেয়ে ‘খুকু’র।স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদ্যজাতর নাম রাখলেন নবনীতা। আরও একটি নামকরণ হয়েছিল তাঁর। স্নেহের ‘রাধু’র [ রাধারানী দেবী] মেয়ের নাম শেষ শয্যায় শুয়েও দিয়েছিলেন শরত্‍চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও – অনুরাধা। তবে রবীন্দ্রনাথের দেওয়া নামটাই আনুষ্ঠানিক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল নবনীতা দেবসেনের।নামকরণের তিন দিন পরেই প্রয়াত হন শরত্‍চন্দ্র। কবি দম্পতির স্নেহচ্ছায়া আর আদ্যোপান্ত সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হওয়া। গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে পড়াশোনা শুরু। গ্রাজুয়েট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। ১৯৫৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশন নিয়ে আবার এমএ পাশ করেন সাহিত্যের এই কৃতী ছাত্রী। পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পোস্ট ডক্টরেট ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের সঙ্গে। পরে অবশ্য বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। দুই মেয়ের একজন সাংবাদিক। অন্যজন অভিনেত্রী। পড়ানোর ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু থেমে থাকেনি তাঁর কলম। একের পর এক লিখে গিয়েছেন কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, উপন্যাস। আত্মজীবনীমূলক রম্যরচনা ‘নটী নবনীতা’র জন্য ১৯৯৯ সালে ভারতের সাহিত্য একাডেমী সম্মান পান, পরের বছর ভারত সরকার তাকে দেন ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান।শুধু যে সাহিত্য রচনাই তিনি করেছেন, তা নয়। ১৯৭৫ থেকে ২০০২ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অধ্যাপনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামুলক সাহিত্য বিভাগে। ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন নবনীতা। মাত্র একদিনের জন্য কলকাতায় এসেও ওই ‘ভালো-বাসা’ বাড়িতেই তোলা সপ্তাহ দুয়েক আগের একটি ছবিই মোটামুটিভাবে নবনীতা দেবসেনের শেষ হাস্যোজ্বল ছবি হিসাবে সাধারণ মানুষের মনে থেকে যাবে।অক্টোবরের ২২ তারিখ ওই বাড়িতেই তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সদ্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!