করোনা নিয়ে আশার আলো দেখাছে নোবেলজয়ী মাইকেল লেভিটের ভবিষ্যদ্বাণী

আজবাংলা    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব পদার্থবিদ ও নোবেলজয়ী মাইকেল লেভিট ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন নতুন করোনাভাইরাস শিগগিরই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।২০১৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান লেভিট । চীনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি গবেষণা করে তিনি এমন কথা জানিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে তিনি করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে গবষণা শুরু করেন। চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব কমার আগেই তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, চীনে খুব দ্রুত করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। গত ১ ফেব্রুয়ারি বন্ধুদের কাছে পাঠানো এক রিপোর্টে লেভিট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনে করোনায় মৃত্যুর হার কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই কমতে থাকবে। লেভিটের এই ভবিষ্যদ্বাণী চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়। তার তিন সপ্তাহ পর চায়না ডেইলি নিউজকে এই নোবেলজয়ী বলেন, ‘এ ভাইরাসের সংক্রমণের হার শেষের দিকে চলে এসেছে।’ তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, সব মিলিয়ে কভিড-১৯-এ চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজারে গিয়ে ঠেকবে। মারা যাবে ৩ হাজার ২৫০ জনের মতো। লেভিট যখন এ ভবিষ্যদ্বাণী করেন, তখন চীনের হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার প্রতিদিন ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা সরলরৈখিকভাবে কমতে শুরু করে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও একইভাবে কমতে থাকে। তার এ ভবিষ্যদ্বাণী আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে সত্যে পরিণত হয়। মার্চ ১৬ পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীনে তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ২৯৮। মারা যান ৩ হাজার ২৪৫ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ এবং মারা গেছে ৩ হাজার ২৭৭ জন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেভিট বলেছেন, ‘আমাদের এখন ভীতি আগে দূর করতে হবে। সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’ নোবেলজয়ী এ জৈব পদার্থবিদ বলেন, মহাবিপর্যয়ের যে ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, তথ্য তা সমর্থন করে না। সংখ্যা এখনো গোলমেলে, তবে ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার কমার প্রমাণ রয়েছে।জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ২২৪ আর এতে মারা গেছে ৪৭১ জন। বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। এতে মারা গেছে ১৭ হাজার মানুষ।লেভিট বলেন, সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি ও ভ্যাকসিন দেওয়া করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।অবশ্য প্রথম দিক থেকেই গবেষকরা বলে আসছেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস আগামী কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। এমনকি অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে এ ভাইরাসে। সেখানে এই নোবেলজয়ীই একমাত্র ব্যতিক্রম যিনি বলছেন, এ ভাইরাসের শেষ সময় চলে এসেছে।