মালদায় নাকা চেকিং করতে গিয়ে লরি থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণের বস্তাভর্তি টাকা,

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা, গভীর রাতে নাকা চেকিং করতে গিয়ে বস্তাভর্তি ভারতীয় টাকা উদ্ধার হলো লরি চালককে সিটের নিচ থেকে । প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে।  এত বিপুল পরিমাণে টাকা লরি করে কোথায় পাচার করা হচ্ছিল তা নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে মালদা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার যদুপুর এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের। ওই এলাকার স্ট্যান্ডের কাছেই পুলিশ চেকিং-এর সময় একটি ফাঁকা লরি থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।  উদ্ধার হওয়া নোটগুলি সবই দুই হাজার  এবং পাচঁশো টাকার। এই ঘটনায় পুলিশ ওই লরি চালককে গ্রেপ্তার করেছে। ওই লরিতে থাকা আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  ধৃত লরি চালকের নাম ওমর ফারুক (২৫) । তার বাড়ি কালিয়াচক থানার শাহবাজপুর গ্রামে।  এই ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা রাজুশেখ নামে একজন পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সেও কালিয়াচক এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে,  যদুপুর এলাকায় রুটিন মাফিক এদিন সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন যানবাহনের উপর নজরদারি এবং নাকা চেকিং করা হচ্ছিল। রাত ১১ টা নাগাদ কালিয়াচক থেকে একটি লরি উত্তরদিনাজপুরের দোমহনা এলাকার যাচ্ছিল। ওই লরি তে কোনও পণ্য সামগ্রী ছিল না ।  লরিটি দাঁড় করিয়ে চালককে কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাতেই চালকের হতচকিত চেহারা এবং অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ জাগে পুলিশের। তারপরেই শুরু করা হয় তল্লাশি। ওই লরিতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের হাতে আসে বস্তাবন্দী প্রায় কোটি টাকার ভারতীয় দুই হাজার ও পাঁচশো টাকার নোট।  এতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের । কি কারণে এত বিপুল পরিমাণ টাকা ফাঁকা লরিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল,  তা নিয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারে নি ধৃত লরি চালক। পুলিশি অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝেই রাজু শেখ নামে ওই লরিতে থাকা এক যুবক এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তদন্তকারী পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন,  কোন অসৎ কাজে এত বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যবহার করা হতো কিনা সে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  কালিয়াচক থেকে ওই ফাঁকা লরিটি  উত্তর দিনাজপুরে দোমহনা এলাকায় যাচ্ছিল। তবে টাকাগুলি কালো ধন বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।  বস্তাভর্তি প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃত গাড়ির চালককে আদালতের মাধ্যমে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। ইংরেজবাজার থানার আইসি শান্তনু মিত্র জানিয়েছেন, কি কারণে এত বিপুল পরিমাণ টাকা  লরিতে ড্রাইভারের সিটের নিচে বস্তা বোঝাই করে পাচার করা হচ্ছিল তা জানতেই ওই চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পিছনে অবৈধ লেনদেন থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই গাড়িতে থাকা যে যুবক পালিয়ে গিয়েছে,  তারও খোঁজ চালানো হচ্ছে।