জন্মাষ্টমীর উৎসবকে ঘিরে সম্প্রীতির সুরে মাতল পুরাতন মালদার মির্জাপুর।

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদাঃ জন্মাষ্টমীর উৎসবকে ঘিরে সম্প্রীতির সুরে মাতল পুরাতন মালদার মির্জাপুর। শুক্রবার সকালে এই উৎসব উপলক্ষে পালপাড়া থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যখন মির্জাপুর মোড়ে পৌঁছয়, তখন রাস্তার পাশেই থাকা পাড়াসামণ্ডি দরগা মসজিদের বাইরেই পেতে রাখা টেবিল থেকে ছোট পানীয় জলের বোতল ও চকোলেট সফিকুল ইসলাম, মহ: সাকিব ও ইব্রাহিমরা শোভাযাত্রায় হেঁটে আসা ঝর্ণা হালদার, কালীপদ পাল, বাবন সরকারদের হাতে তুলে দিলেন। সেই জলেই তৃষ্ণা মেটালেন হিন্দু ভক্তরা। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এদিন পুরাতন মালদার বাচামারি পালপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার। এদিন সকাল ন'টায় পালপাড়া থেকে সেই শোভাযাত্রা বের হয়। বিশেষ একটি রথে ছিল গোপালের মূর্তি। সামনের সারিতে খোল-করতাল নিয়ে চলছিল নাম সংকীর্তন। আর শোভাযাত্রার পেছনদিকে ছিল সাউন্ডবক্স ভক্তিগীতির সুরের তালে নাচ। মাঝে হাজারেরও বেশি ভক্ত। কারও মুখে শ্রীকৃষ্ণের স্লোগান, কারওবা গলায় শ্রীকৃষ্ণের উত্তরীয়। পালপাড়া থেকে নতুনপল্লি, সারদাপল্লি, খইহাট্টা, ঘোষপাড়া, বুলবুলি রোড, মঙ্গলবাড়ি, বাঁধরোড হয়ে সেই শোভাযাত্রা শেষ হয় পালপাড়াতেই। কয়েক হাজার ভক্তের সঙ্গে এদিন শোভাযাত্রায় অংশ নেন এলাকার সাংসদ খগেন মুর্মু, এলাকার বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদার, পুরাতন মালদা পুরসভার পুরপ্রধান কার্তিক ঘোষরা। তবে এদিনের এই শোভাযাত্রা মির্জাপুর মোড়ে ভিন্ন মাত্রা পেল সম্প্রীতির আবহে। পুরাতন মালদা পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন যুবক বৃহস্পতিবার রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া শ্রীকৃষ্ণ ভক্তদের মধ্যে জল ও চকলেট বিলি করবেন। এদিন সকালেই মির্জাপুর মোড়ে থাকা পাড়াসামণ্ডি দরগা মসজিদের সামনে চলে এসেছিলেন তারা। মসজিদের সামনে প্লাস্টিকের টেবিলে রাখা হয় কয়েকশো জলের বোতল। এদিন বিশাল ওই শোভাযাত্রা যখন মসজিদের কাছে আসে তখন সফিকুল, সাকিবরা ভক্তদের মধ্যে সেই জলের বোতল ও চকলেট তুলে দেন। ওই জল দিয়েই তেষ্টা মেটান ভক্তরা। পালপাড়ারই এক ভক্ত ব্রজেন হালদার বলেন, "জাতপাত আমরা বুঝিতে চাই না। একজন আমায় জল দিল, আমি তৃষ্ণা মেটালাম।" স্থানীয় কাউন্সিলর সফিকুল বলেন, কয়েক হাজার মানুষ এই গরমে প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার এলাকা পরিক্রমা করেন। এতদূর হেঁটে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই তাদের জলদান করে আমরা আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, মুসলিমরা আমাদের হিন্দু ভক্তদের জল দান করল, এটাই হল আমাদের ঐতিহ্য। বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, আজ মুসলিম ভাইদের এই জলদান সম্প্রীতির একটা ভাল বার্তা দিল।